৩৫ বছর পর খুলল খুনের রহস্য! খুনি মরলেও পিছু ছাড়েনি প্রেতাত্মা; মাটি খুঁড়তেই মিলল তরুণীর কঙ্কাল!

আহমেদাবাদের ভাতওয়া এলাকার কুতুবনগরে সাড়ে তিন দশক পর উন্মোচিত হলো এক শিহরণ জাগানো হত্যাকাণ্ডের রহস্য। ১৯৯২ সালে ঘটে যাওয়া সেই অপরাধের চিহ্ন হিসেবে সম্প্রতি একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক তরুণীর কঙ্কাল। অভিযুক্ত খুনি বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেলেও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, ‘অতৃপ্ত আত্মার’ উপদ্রব এবং তান্ত্রিকের তথ্যের ভিত্তিতেই দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই অপরাধের অবশিষ্টাংশ জনসমক্ষে এল।
পুরোনো শত্রুতা ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড
তদন্তে জানা গেছে, নিহত তরুণীর নাম শবনম ওরফে ফারজানা। মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ফারজানার সঙ্গে তার প্রেমিক শামসুদ্দিনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ার ভয়ে শামসুদ্দিন ফারজানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহটি বাড়ির সামনে ড্রেনেজ পিটের নিচে মাটি চাপা দেয়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ ফারজানার কোনো হদিস মেলেনি এবং শামসুদ্দিনও স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেন।
অলৌকিক ভীতি ও রহস্যের সমাধান
হত্যাকারীর মৃত্যুর পর ওই বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যরা অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছিলেন বলে জানান। গভীর রাতে পায়ের আওয়াজ এবং আসবাবপত্র পড়ার শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে তারা এক তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হন। ওই তান্ত্রিকই নির্দিষ্ট স্থানে একটি মরদেহ পুঁতে রাখার ইঙ্গিত দেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও ফরেনসিক দল (FSL) মাটি খুঁড়ে কঙ্কাল, চুল এবং একটি আংটি উদ্ধার করে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই দেহাবশেষ নিখোঁজ ফারজানার।
অপরাধ বিজ্ঞানে এই ঘটনাটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘাতক মৃত্যুবরণ করলেও এবং দীর্ঘ সময় পার হলেও যে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে সত্য গোপন থাকে না, এই মামলাটি তারই প্রমাণ। বর্তমানে পুলিশ এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার পাশাপাশি ফরেনসিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ করছে।
এক ঝলকে
- আহমেদাবাদে ১৯৯২ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য ৩৫ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে।
- প্রেমিক শামসুদ্দিনের হাতে খুন হওয়া ফারজানার কঙ্কাল বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের নিচ থেকে উদ্ধার।
- অভিযুক্ত খুনির পরিবারের অভিযোগ ও তান্ত্রিকের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।
- উদ্ধারকৃত হাড় ও আংটির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
