৩৬০° ঘোরে ঘাড়, রাতে কাঁদে শিশুর মতো! এই অদ্ভুত প্রাণীর ৭টি তথ্য আপনার পিলে চমকে দেবে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মাঝরাতে আফ্রিকার জঙ্গলে শিশুর কান্না! অলৌকিক আতঙ্ক নাকি প্রকৃতির অদ্ভুত সৃষ্টি
আফ্রিকার গহীন জঙ্গলে মাঝরাতে হঠাৎ কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনলে যে কেউ ভয়ে শিউরে উঠতে পারেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানেন, এটি কোনো ভূত-প্রেত বা অলৌকিক ঘটনা নয়। এই ভুতুড়ে ও অদ্ভুত আওয়াজের নেপথ্যে রয়েছে নিশাচর ও অত্যন্ত চমৎকার এক প্রাণী, যার নাম ‘বুশ বেবি’ বা ‘গালাগো’। আকারে ছোট, বড় চোখ এবং নরম পশমে ঢাকা এই নিরীহ দর্শন প্রাণীটির জীবনযাত্রা ও শারীরিক গঠন এতটাই বৈচিত্র্যময় যে তা বিজ্ঞানীদেরও রীতিমতো চমকে দেয়।
প্রকৃতির অদ্ভুত বিবর্তন ও শারীরিক রহস্য
বুশ বেবির শারীরিক গঠনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এদের দুটি জিভ এবং ৩৬60 ডিগ্রি মাথা ঘোরানোর ক্ষমতা। এদের প্রথম জিভটি খাবার খাওয়া ও গাছের আঠা চাটার কাজে ব্যবহৃত হলেও, দ্বিতীয় জিভটি মূলত দাঁত পরিষ্কার করার জন্য ‘টুথকম্ব’ বা চিরুনির মতো কাজ করে। শিকারের সুবিধার জন্য এদের চোখ দুটি আকারে বেশ বড় হলেও তা চোখের কোটরে নড়াচড়া করতে পারে না। ফলে শিকারের অবস্থান নিশ্চিত করতে এরা পেঁচার মতো নিজের মাথাকে সম্পূর্ণ ৩৬0 ডিগ্রিতে ঘোরাতে পারে। এছাড়াও, এদের রাডারের মতো সংবেদনশীল কান ক্ষণিকের মধ্যে দিক পরিবর্তন করে অন্ধকারের মধ্যেও কীটপতঙ্গের সামান্যতম নড়াচড়া ধরে ফেলতে সক্ষম।
আজব স্বভাব ও টিকে থাকার লড়াই
অদ্ভুত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি বুশ বেবির কিছু অভ্যাসও বেশ অদ্ভুত, যার অন্যতম হলো ‘ইউরিন-ওয়াশিং’। এরা নিজেদের হাত ও পায়ে প্রস্রাব করে তা পুরো শরীরে মাখিয়ে নেয়। এর মূল কারণ হলো গাছের ডালে চলাফেরা করার সময় পায়ের গ্রিপ বা মুঠো শক্ত করা এবং নিজেদের গন্ধ দিয়ে নিজস্ব এলাকা চিহ্নিত করা। নিশাচর হওয়ার কারণে এরা সারাদিন গাছের খোঁড়লে দলবদ্ধভাবে ঘুমিয়ে কাটায় এবং ঘুমানোর সময় কোলাহল এড়াতে নিজেদের কান দুটিকে গুটিয়ে মাথার সাথে লেপ্টে রাখে। অত্যন্ত শক্তিশালী পেছনের পায়ের কারণে এরা এক লাফে প্রায় ৪ মিটার পর্যন্ত দূরত্ব পার হতে পারে, যা তাদের শিকার ধরতে ও শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
এক ঝলকে
- আফ্রিকার জঙ্গলে মাঝরাতে মানুষের শিশুর মতো কান্নার আওয়াজ তৈরি করে বুশ বেবি বা গালাগো নামের এই নিশাচর প্রাণী।
- এদের মুখে দুটি জিভ থাকে এবং চোখ স্থির হওয়ায় এরা পেঁচার মতো ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত মাথা ঘোরাতে পারে।
- গাছের ডালে যাতায়াতের সুবিধার্থে গ্রিপ বা শক্ত মুঠো তৈরি করতে এরা নিজেদের হাত-পায়ে প্রস্রাব মাখিয়ে নেয়।
- এদের শক্তিশালী পেছনের পা শরীরের ওজনের প্রায় ১০ শতাংশ এবং এর সাহায্যে এরা এক লাফে ৪ মিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম।
