৩৬৫ দিনে ১০০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র! রেকর্ড গড়ে ইতিহাস ভারতের

৩৬৫ দিনে ১০০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র! রেকর্ড গড়ে ইতিহাস ভারতের

প্রতিরক্ষা খাতে মাইলফলক: লখনউ থেকে শুরু ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম দফার সরবরাহ

প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভারত। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে অবস্থিত অত্যাধুনিক ব্রহ্মোস উৎপাদন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরের অধীনে গড়ে ওঠা এই প্ল্যান্টটি ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। গত বছর অক্টোবরে প্রথম চারটি ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাচ তৈরির পর, বর্তমানে তা ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

লখনউ প্ল্যান্ট ও উৎপাদন সক্ষমতার বিস্তার

এতদিন ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের মূল উৎপাদন কেন্দ্র ছিল হায়দ্রাবাদ। তবে লখনউয়ের এই নতুন ইউনিটের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এই কারখানা থেকে বছরে ৮০ থেকে ১০০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। এই বাড়তি উৎপাদন ক্ষমতা ভারতীয় স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর চাহিদাকে দ্রুত মেটাতে সক্ষম হবে। এটি কেবল সরবরাহ চেইনকে মজবুত করেনি, বরং দেশের সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী পরিকাঠামোকেও শক্তিশালী করেছে।

ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের কৌশলগত গুরুত্ব

ব্রহ্মোস বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষমতা একে অপরাজেয় করে তুলেছে। স্থলপথ, জলপথ বা আকাশপথ—যেকোনো স্থান থেকে এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম। শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দিয়ে শব্দের গতির চেয়েও দ্রুত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অনন্য ক্ষমতার কারণে আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিমণ্ডলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

আত্মনির্ভর ভারত ও ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা অর্থনীতি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের লক্ষ্য হলো বিদেশের ওপর সামরিক নির্ভরতা চিরতরে ঘুচিয়ে ভারতকে বিশ্বমানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার রেকর্ড অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি, চলতি অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮,০০০ কোটি টাকা, যা প্রমাণ করে ভারত এখন অস্ত্র আমদানিকারকের গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

চ্যালেঞ্জ ও আগামী দিনের সম্ভাবনা

উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও তিন বাহিনীর বিপুল চাহিদার নিরিখে তা যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া কিছু বিশেষ প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশের জন্য এখনও কিঞ্চিৎ বিদেশি নির্ভরতা বজায় রয়েছে। তবে সরকার লখনউয়ের মতো নতুন নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তিতে সরঞ্জাম তৈরির দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। লখনউ থেকে শুরু হওয়া এই ডেলিভারি ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • লখনউ প্ল্যান্ট থেকে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের বাণিজ্যিক ডেলিভারি শুরু হয়েছে।
  • এই কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০ থেকে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র।
  • ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের মোট উপাদানের ৭০ শতাংশ এখন দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি।
  • ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৩৮,০০০ কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
  • স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক এই মারণাস্ত্রের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজ হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *