৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণসহ মিলবে নানা সুবিধা, এবার বাংলাতেও চালু হচ্ছে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের প্রান্তিক ও ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম সফল উদ্যোগ ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবার পশ্চিমবঙ্গেও পুরোদমে চালু হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করা এই বিশেষ প্রকল্পটি মূলত ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের ভাগ্যবদলের এক নতুন হাতিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে দেশের একটি বড় অংশ এই সুবিধার আওতায় এলেও, এবার বাংলার কারিগরদের সামনেও খুলে যাচ্ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার।
কারা পাবেন এই বিশেষ সুবিধা
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো স্বর্ণকার, কুম্ভকার, মালাকার, কুমোরসহ মোট ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত স্বনিযুক্ত কারিগরদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে এবং পরিবারে কেবল একজন সদস্যই এই সুবিধা পাবেন। এছাড়া, পরিবারে কোনো সরকারি চাকরিজীবী থাকলে তিনি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না। পাশাপাশি, গত ৫ বছরের মধ্যে পিএমইজিপি, মুদ্রা বা পিএম স্বনিধির মতো অন্য কোনো সরকারি ঋণভিত্তিক সুবিধা গ্রহণকারীরা এই যোজনার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
প্রশিক্ষণ, টুলকিট ও স্বল্প সুদে সহজ ঋণ
পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার প্রধান আকর্ষণ হলো এর বহুমুখী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের কাজের মান উন্নত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা হারে স্টাইপেন্ড এবং কাজের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি বা টুলকিট কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের জন্য এই প্রকল্পের আওতায় অত্যন্ত কম সুদে মোট ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রথম দফায় ১৮ মাসের মেয়াদে ১ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এই প্রাথমিক ঋণ সফলভাবে পরিশোধ করার পর, দ্বিতীয় দফায় ৩০ মাসের মেয়াদে আরও ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে।
আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া
প্রকল্পের সুবিধা নিতে যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন করতে পারবেন। অফলাইনে আবেদনের জন্য নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টারে (সিএসসি) প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে, যেখানে কর্মকর্তারা যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। অন্যদিকে, অনলাইনের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://pmvishwakarma.gov.in/) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট বিবরণী পূরণের মাধ্যমে সহজেই আবেদন করা যাবে।
এই প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের কুটির শিল্পীদের আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে নিজেদের ব্যবসা বড় করার সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
