৩ লাখের সুপারি কিলিং: দিলীপ রাম হত্যা মামলায় ৭ জন দোষী সাব্যস্ত চুঁচুড়া আদালতে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চুঁচুড়া: দীর্ঘ সাত বছর প্রতীক্ষার পর অবশেষে বহুল আলোচিত দিলীপ রাম হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল চুঁচুড়ার আদালত। ২০১৯ সালের ২৯ জুন ব্যান্ডেল স্টেশনে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম। মঙ্গলবার চুঁচুড়ার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় এই মামলায় সাতজন অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) সহ বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন। বুধবার এই মামলায় তাদের সাজা ঘোষণা করা হবে।
আদালতের এই রায়ে দোষীদের সাজা নিশ্চিত হলেও, নিহতের পরিবার পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। কারণ এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী তথা এলাকার কুখ্যাত মাদক কারবারি শকুন্তলা যাদব ওরফে সমুন্দ্রি যাদব এবং তাঁর এক ছেলে এখনও পলাতক রয়েছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড?
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালের ২৯ জুন সকালে। নৈহাটিতে নিজের কর্মস্থলে (রেলের পিডব্লিউআই অফিস) যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন দিলীপ রাম।
- পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে আক্রমণ: সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ ব্যান্ডেল স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওঠার মুখে রেললাইনের ওপর তাঁকে ঘিরে ধরে দুষ্কৃতীরা। এরপর একদম কাছ থেকে (পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে) তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়।
- সন্ত্রাস সৃষ্টি ও চম্পট: গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় প্ল্যাটফর্মেই লুটিয়ে পড়েন দিলীপ। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে এবং সহজে পালিয়ে যাওয়ার জন্য দুষ্কৃতীরা শূন্যেও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
জমি বিবাদ ও ৩ লাখ টাকার সুপারি কিলিং
তদন্তে নেমে ব্যান্ডেল জিআরপি এবং পরবর্তীতে চুঁচুড়া থানার পুলিশ জানতে পারে, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত সুপারি কিলিং।
তদন্তকারী অফিসার ও সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, জমি সংক্রান্ত পুরনো শত্রুতার জেরে মাদক কারবারি শকুন্তলা যাদব ৩ লাখ টাকা সুপারি দিয়ে পেশাদার শুটারদের ভাড়া করেছিল। এই মামলায় মোট ৩৯ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়। মূল শুটার গুড্ডুর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের ফরেন্সিক রিপোর্টেই প্রমাণিত হয় যে ওই অস্ত্র দিয়েই দিলীপ রামকে গুলি করা হয়েছিল।
দোষী সাব্যস্ত যারা
পুলিশের পেশ করা চার্জশিটে থাকা মোট নয়জন অভিযুক্তের মধ্যে সাতজনকে দোষী ঘোষণা করেছে আদালত। তারা হলো— মহম্মদ নাসিম ওরফে গুড্ডু, মহম্মদ মানু, মহম্মদ সানু, সাদ্দাম হোসেন, মঙ্গল যাদব, বৈজনাথ রায় ওরফে হেডেক এবং মহম্মদ আকবর।
তদন্তে মূল চক্রান্তকারী শকুন্তলা ও তার আরেক ছেলে আজাদের নাম উঠে এলেও তারা এখনও অধরা। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
