৫০ কোটির কো ম্পা নি কি লোভের বলি হলো? ব্যাংকগুলোও চরম বিপদে!

৫০ হাজার কোটির সাম্রাজ্য এখন স্মৃতি: দেউলীয়ার মুখে ভিডিওকন প্রধান বেণুগোপাল ধূত
এক সময়ের ভারতীয় ইলেকট্রনিক্স বাজারের একচ্ছত্র অধিপতি ভিডিওকন গ্রুপ এখন ধ্বংসের মুখে। কয়েক দশকের দাপুটে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য হারিয়ে এখন ব্যক্তিগত দেউলিয়া প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছেন গ্রুপের প্রোমোটার বেণুগোপাল ধূত। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) আবেদনের প্রেক্ষিতে মুম্বইয়ের ন্যাশনাল কো ম্পা নি ল ল ট্রাইবুনাল (NCLT) ধূতের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দেউলিয়া সমাধান প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে বকেয়া ঋণ মেটাতে এখন ধূত পরিবারের ব্যক্তিগত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করার পথ প্রশস্ত হলো।
পতনের নেপথ্যে: কেন ডুবল ৫০ হাজার কোটির ব্যবসা?
আশির দশক থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত টিভি, ফ্রিজ এবং এসির বাজারে ভিডিওকনের আধিপত্য ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সেই সময়ে কো ম্পা নির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৫০ হাজার কোটি টাকা। তবে অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ভুল কৌশলগত সিদ্ধান্ত এই বিশাল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- অপ্রাসঙ্গিক খাতে বিনিয়োগ: মূল ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায় সফল হলেও ধূত খনিজ তেল এবং টেলিকম সেক্টরে প্রবেশ করেন। মোজাম্বিকের তেল ব্লকের প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
- তীব্র বাজার প্রতিযোগিতা: টেলিকম খাতের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জিও-র মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে টিকতে না পেরে ভিডিওকন টেলিকমিউনিকেশনস দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়ে।
- ঋণের পাহাড়: ব্যবসা সম্প্রসারণের নেশায় এসবিআই এবং আইসিআইসিআই-এর মতো ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঋণের সুদ মেটাতে ব্যর্থ হয়ে গোষ্ঠীটি ডিফল্টার হিসেবে চিহ্নিত হয়।
চন্দা কোচার বিতর্ক ও জালিয়াতির অভিযোগ
ভিডিওকনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন প্রধান চন্দা কোচারের সঙ্গে বেণুগোপাল ধূতের বিতর্কিত লেনদেন। অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভিডিওকনকে মোটা অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ধূত কোচারের স্বামীকে ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদান করেছিলেন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এই জালিয়াতির তদন্ত শুরু করার পর ধূতের ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কো ম্পা নিটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দেয়।
ব্যক্তিগত গ্যারান্টি এবং আইনি সংকট
সাধারণত কর্পোরেট ঋণের দায়ভার কো ম্পা নির ওপর থাকে, কিন্তু বেণুগোপাল ধূত নিজে ৮ হাজার কোটি টাকার ঋণের ব্যক্তিগত গ্যারান্টার হয়েছিলেন। কো ম্পা নি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এখন সরাসরি ধূত এবং তাঁর পরিবারের ওপর দায় বর্ত করেছে। এনসিএলটি-র নির্দেশে এখন তাঁর এবং তাঁর ভাইদের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে টাকা উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যেভাবে হবে ৮ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার
আদালতের নিযুক্ত রেজোলিউশন প্রফেশনাল এখন ধূত পরিবারের সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তির তালিকা তৈরি করবেন। বকেয়া টাকা আদায়ের লক্ষ্যে নিচের সম্পদগুলো বিক্রি করা হতে পারে:
- বিলাসবহুল বাড়ি এবং অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি।
- দামি গাড়ি ও বিভিন্ন যানবাহন।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, শেয়ার বাজার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ।
এক ঝলকে
- সংকটে প্রোমোটার: বেণুগোপাল ধূতসহ রাজকুমার ও প্রদীপ ধূতের বিরুদ্ধে দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু।
- ঋণের পরিমাণ: ৮ হাজার কোটি টাকার ব্যক্তিগত গ্যারান্টি এবং সামগ্রিকভাবে ৪০ হাজার কোটি টাকার ঋণের দায়।
- সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: বকেয়া মেটাতে ধূত পরিবারের বাড়ি, গাড়ি ও শেয়ার বিক্রি করা হবে।
- ব্যর্থতার কারণ: খনিজ তেল ও টেলিকম খাতে ভুল বিনিয়োগ এবং চন্দা কোচার সংক্রান্ত ঋণ কেলেঙ্কারি।
- ব্যাঙ্কের লোকসান: ঋণদাতা ব্যাঙ্কগুলো ভিডিওকন মামলায় ইতিপূর্বে ৯০ শতাংশের বেশি ‘হেয়ারকাট’ বা লোকসান সহ্য করেছে।
