৫১ ফুট ওপর থেকে ধাক্কা দিয়েও শেষরক্ষা হলো না, স্ত্রীর মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দিতে ফেঁসে গেলেন ঘাতক স্বামী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের পর্যটনকেন্দ্র ‘আর্থার সিট’ পাহাড়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে হত্যার দায়ে ঘাতক স্বামী কাশিফ আনোয়ারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। নিহত ফাওজিয়া জাভেদ একজন পেশাদার আইনজীবী ছিলেন। নিজের ১৭ সপ্তাহের অনাগত সন্তানসহ স্ত্রীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পাহাড়ে ভ্রমণের ছক কষেছিলেন কাশিফ। তবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ফাওজিয়া পথচারী ও পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বামীর নৃশংসতার কথা ফাঁস করে দেন, যা শেষ পর্যন্ত ঘাতকের সাজা নিশ্চিত করে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা পারিবারিক কলহ
২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর কাশিফ ও ফাওজিয়ার বিয়ে হয়। পেশায় আইনজীবী ফাওজিয়া বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর উগ্র ও অপমানজনক আচরণের সম্মুখীন হন। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং বিষয়টি তার মাকে ফোনে জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই দম্পতি ছুটি কাটাতে এডিনবার্গে যান। পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যাস্ত দেখানোর নাম করে নিয়ে গিয়ে কাশিফ তার স্ত্রীকে গালাগালি ও শারীরিক হেনস্তা শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে পাহাড়ের প্রায় ৫১ ফুট নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।
মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দি ও আদালতের রায়
পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফাওজিয়া এক পথচারীকে দেখতে পান। জ্ঞান হারানোর ঠিক আগে তিনি চিৎকার করে জানান যে তার স্বামীই তাকে ধাক্কা দিয়েছেন এবং তাকে যেন কাছে আসতে না দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ফাওজিয়া তাদের কাছেও স্বামীর অপরাধের কথা বিস্তারিত বর্ণনা করেন। যদিও হাসপাতালে নেওয়ার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আদালতে কাশিফ এই ঘটনাকে ‘সেলফি নিতে গিয়ে দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতক্ষদর্শী এবং পুলিশের কাছে দেওয়া ফাওজিয়ার জবানবন্দির ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হয়।
এক ঝলকে
- স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের আর্থার সিট পাহাড়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে হত্যার দায়ে কাশিফ আনোয়ারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- নিহত ফাওজিয়া জাভেদ পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন এবং তিনি স্বামীর দীর্ঘদিনের নির্যাতন থেকে বাঁচতে বিচ্ছেদের পরিকল্পনা করছিলেন।
- পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়ার পর মৃত্যুর আগে ফাওজিয়া পুলিশ ও পথচারীদের কাছে তার স্বামীর অপরাধের কথা প্রকাশ করে যান।
- কাশিফ ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করলেও ফাওজিয়ার জবানবন্দি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
