৫ মে-র পর সবাই জেলে যাবে! শাহের হুঙ্কারে কাঁপছে মালদা

মালদা দক্ষিণে হুঙ্কার অমিত শাহের: তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাক, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি
বঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে মালদা দক্ষিণে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। জনসভার মঞ্চ থেকে তিনি যেমন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন, তেমনই ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির নীল নকশা তুলে ধরেছেন।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের কৌশল
তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবার বিশেষ কৌশলে এগোচ্ছে বিজেপি। অমিত শাহ জানিয়েছেন, নতুন বছর থেকেই দলের কর্মীরা সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছাবেন। সেখানে বিশেষ ফর্ম পূরণের মাধ্যমে মহিলা ও যুবকদের কাছে বিজেপির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত জনভিত্তি মজবুত করে সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল গ্রহণ করেছে গেরুয়া শিবির।
প্রতিশ্রুতির মেগা প্যাকেজ
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিজেপি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছু আর্থিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতির ঘোষণা করেছে। এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের জনজীবনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির ঘোষিত উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে:
- আর্থিক সহায়তা: রাজ্যের মহিলা ও যুবকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি।
- কৃষক সুরক্ষা: প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির বিদ্যমান ৬ হাজার টাকার অনুদান বাড়িয়ে ৯ হাজার টাকা করার ঘোষণা।
- স্বাস্থ্য পরিকাঠামো: গরিব মানুষের জন্য আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার নিশ্চয়তা।
দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার ইস্যুতে চড়া সুর
প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ বজায় রেখেছেন অমিত শাহ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার বার্তা দিয়ে তিনি দাবি করেন, আগামী ৫ মে-র পর রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের জেলে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে রাজ্যে নারী নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
এই জনসভা থেকে দেওয়া বার্তা ও প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বিজেপি মূলত একটি বিকল্প প্রশাসনিক রূপরেখা জনসমক্ষে তুলে ধরতে চাইছে। মালদার মতো জনবহুল এলাকায় এই প্রচারের প্রভাব এবং জনমতের সমীকরণ কোন দিকে ঘুরে দাঁড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
এক ঝলকে
- মালদার জনসভা: বাংলা নববর্ষের আগে তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তৃণমূল স্তরে প্রচার: বিজেপির কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবেন।
- আর্থিক প্রতিশ্রুতি: মহিলা ও যুবকদের ৩০০০ টাকা অনুদান এবং কিষাণ নিধিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে ৯০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি।
- স্বাস্থ্য সুরক্ষা: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা।
- কড়া বার্তা: দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও তাদের জেল হেফাজতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অমিত শাহ।
