৫ লক্ষ টাকার বিমা এবার বাংলায়! আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাবেন যেভাবে

৫ লক্ষ টাকার বিমা এবার বাংলায়! আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাবেন যেভাবে

পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, রাজ্যে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ বছরে পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কার্ড তৈরির যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি

আয়ুষ্মান ভারত বা প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং আয়ের শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া যাদের লেবার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট আছে, তারাও অগ্রাধিকার পাবেন। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://pmjay.gov.in) থেকে ‘Am I Eligible’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে যে কেউ নিজের যোগ্যতা যাচাই করে নিতে পারেন।

আবেদন পদ্ধতি ও ডিজিটাল সুবিধা

যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলে কার্ড পাওয়ার জন্য বেশ কিছু সহজ উপায় রয়েছে। সরকারি ওয়েবসাইট ছাড়াও ‘আয়ুষ্মান অ্যাপ’ ব্যবহার করে ঘরে বসেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব। অ্যাপে ‘বেনিফিশিয়ারি’ হিসেবে লগ ইন করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। এ ছাড়া যারা প্রযুক্তিতে স্বচ্ছন্দ নন, তারা নিকটস্থ সিএসসি (CSC) বা তথ্যমিত্র কেন্দ্রে গিয়েও সরাসরি আবেদন করতে পারেন। সেখানে তথ্য যাচাইয়ের পর সফল আবেদনকারীদের ডিজিটাল আয়ুষ্মান কার্ড প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা পরিষেবা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই কার্ডের মাধ্যমে নথিভুক্ত তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলোতে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের খরচ এই বিমার আওতায় আসবে। বাংলায় এই প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষ ব্যয়বহুল চিকিৎসার বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের এই কেন্দ্রীয় উদ্যোগ রাজ্যে কার্যকর হলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ অনেকাংশে কমবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *