৬০ মিনিটে ৬৯ নাম! আমি কি রাবার স্ট্যাম্প? সিবিআই প্রধান নিয়োগে মোদীকে কড়া চিঠি রাহুলের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দেশের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর নতুন ডিরেক্টর নিয়োগের প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তাল রাজধানীর রাজনীতি। সিবিআই প্রধান বাছাইয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সরকার এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেবল একটি ‘নিয়ম রক্ষার খেলা’ বা প্রহসনে পরিণত করেছে। স্বচ্ছতার অভাব এবং বিরোধী পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাহুল স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা কোনো ‘রাবার স্ট্যাম্প’ নন।
এক ঘণ্টার বৈঠকে ৬৯ প্রার্থীর তালিকা ও তথ্যের অভাব
সিবিআই ডিরেক্টর বাছাইয়ের জন্য আয়োজিত বৈঠকে নাটকীয় মোড় আসে যখন মাত্র ৬০ মিনিটের মধ্যে ৬৯ জন অফিসারের নাম বিবেচনার জন্য পেশ করা হয়। রাহুল গান্ধীর দাবি, এত কম সময়ে এতজন প্রার্থীর ক্যারিয়ার রেকর্ড ও অতীত কর্মজীবন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা কার্যত আসাম্ভব। অভিযোগ উঠেছে, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও প্রার্থীদের ‘সেল্ফ-অ্যাপ্রেজাল’ এবং ‘৩৬০-ডিগ্রি’ মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বিরোধী দলনেতাকে সরবরাহ করা হয়নি। রাহুলের মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রাখার অর্থ হলো সরকার আগে থেকেই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করে রেখেছে এবং এই বৈঠকটি ছিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তার মেঘ
বর্তমান ডিরেক্টর প্রবীণ সুদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ মে। নতুন প্রধান হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে সিআরপিএফ প্রধান জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং, র (R&AW) প্রধান পরাগ জৈন এবং আইটিবিপি প্রধান শত্রুজিৎ কাপুরের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই রাহুল গান্ধীর এই ‘ভিন্নমতের নোট’ (dissent note) পুরো প্রক্রিয়াকে আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এই বিরোধের ফলে একদিকে যেমন শীর্ষ সংস্থার প্রধান নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে সরকারের সঙ্গে বিরোধী শিবিরের তিক্ততা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু এবং সংসদে কথা বলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের আবহে সিবিআই প্রধান নিয়োগ নিয়ে এই সংঘাত জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
