৭০ মিনিটে ছাই ২০ হাজার কোটি ডলার! ট্রাম্পের এক পোস্টেই বিশ্ব শেয়ার বাজারে মহাপ্রলয়

ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত সামাজিক মাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে লেনদেন শুরুর মাত্র ৭০ মিনিটের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও, যেখানে সেনসেক্স ও নিফটি সূচকের ব্যাপক পতনে লগ্নিকারীরা বড় অংকের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সংঘাতের মেঘে তেলের বাজারের অস্থিরতা
সংকট ঘনীভূত হয়েছে ট্রাম্পের একটি পোস্টের মাধ্যমে, যেখানে তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ উল্লেখ করে সেটি অবরুদ্ধ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে মার্কিন আক্রমণের আশঙ্কা থেকেই জ্বালানির বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় বাজারে বড় ধস ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা
ওয়াল স্ট্রিটের পতনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জেও (বিএসই)। বৃহস্পতিবার লেনদেন চলাকালীন সেনসেক্স প্রায় ১১৮০ পয়েন্ট এবং নিফটি ৩৫০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তবে শেয়ারবাজারে ধস নামলেও অস্থিরতার এই আবহে সোনা ও রুপোর মতো নিরাপদ লগ্নির দাম বাড়তে দেখা গেছে।
এক ঝলকে
- ট্রাম্পের ইরান নীতি ও হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধস।
- মাত্র ৭০ মিনিটে মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে উধাও হয়েছে ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।
- ভারতের সেনসেক্স ১,১৮০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়ে লগ্নিকারীদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন করেছে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৩ ডলারে পৌঁছেছে।
