৭৭ হাজার কোটির সাম্রাজ্যের নেপথ্যে উপাসনা! নারী-পুরুষ সমতার নতুন রূপ দিলেন রাম চরণ-পত্নী

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা সাম্রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। রুপোলি পর্দার তারকা রাম চরণের স্ত্রী পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয়—তিনি নিজেই এক সফল ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব। ৭৭ হাজার কোটি টাকার বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী উপাসনা কোনিডেলা আজ সাফল্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বর্তমানে সিনেপাড়ায় রাম চরণের আসন্ন ছবি ‘পেড্ডি’ নিয়ে যতই বিতর্ক চলুক, বাস্তব জীবনের এই ‘পাওয়ার কাপল’ নিজেদের কাজ ও দর্শনের মাধ্যমে নজর কাড়ছেন সবার।
ব্যবসায়িক সাফল্যের নেপথ্যে:
ব্যবসায়ী কামিনেনি পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা উপাসনার। ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার পরিবেশের সাথে পরিচিত তিনি। বর্তমানে তিনি জাইডাস গ্রুপের ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর এবং অ্যাপোলো ২৪/৭-এর বোর্ড সদস্য। এর পাশাপাশি অ্যাপোলো হাসপাতালের সিএসআর (CSR) কার্যক্রম এবং এফএইচপিএল (FHPL)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। ‘ফিলানথ্রপিস্ট অব দ্য ইয়ার’ ও ‘ফোর্বস টাইকুনস অব টুমরো’-র তালিকায় স্থান পাওয়া উপাসনা প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল উত্তরাধিকারী নন, বরং দক্ষ পরিচালিকাও। পরিবারের অন্দরের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট ‘ফ্যামিলি কনস্টিটিউশন’ বা পারিবারিক সংবিধান মেনে চলার ওপর জোর দেন।
নারী-পুরুষ সমতার নতুন সংজ্ঞা:
পারিবারিক পিতৃতন্ত্রের গণ্ডি ভেঙে নারী-পুরুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী উপাসনা। তিনি মনে করেন, তাঁদের পরিবারে নারীরা যোগ্যতার জোরেই নিজেদের স্থান ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। অভিনেতা রাম চরণের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াও বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। রাম চরণের নিজের কথায়, “বাড়ির অন্দরের আসল বস উপাসনা।” পেশাগত জীবনে রাম চরণ ও উপাসনা একে অপরের পরিপূরক। একদিকে অভিনয় ও প্রযোজনার জগৎ, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা সাম্রাজ্য—উভয়েই নিজেদের ক্ষেত্রে সাফল্যের শিখরে।
‘পেড্ডি’ ছবির বিতর্কিত দৃশ্য নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় নির্মাতারা যখন নড়েচড়ে বসেছেন, তখন উপাসনার এই সমতার বার্তা এবং ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা সমাজকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই দম্পতি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।
