৯৫৪ কোটির ব্যাঙ্ক প্রতারণা ও সেক্স পার্টি, মার্কিন মুলুকে গ্রেফতার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী! – এবেলা

৯৫৪ কোটির ব্যাঙ্ক প্রতারণা ও সেক্স পার্টি, মার্কিন মুলুকে গ্রেফতার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিমা পলিসির রেকর্ড জালিয়াতি এবং আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে মার্কিন ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৯৫৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউপোর্ট বিচ থেকে গ্রেফতার হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থলগ্নকারী ব্যবসায়ী মহেন্দর মাখিজানি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) একটি দল ক্যালিফোর্নিয়ার তার বিলাসবহুল প্রাসাদ থেকে তাকে আটক করে। এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে ৪৪ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর সর্বোচ্চ ত্রিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মূলত লোভ এবং ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তারের বেপরোয়া মানসিকতাই এই বিশাল জালিয়াতির জন্ম দিয়েছিল, যার পরিণতি হিসেবে এখন দীর্ঘ কারাবাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।

জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিনব কৌশল

আদালতের নথি অনুযায়ী, মহেন্দর ‘ক্যান্টর গ্রুপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতেন। আবাসন খাতে ঋণ দেওয়ার নাম করে তিনি একটি মার্কিন ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে ঋণের জামানত হিসেবে রাখা সম্পত্তির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন তিনি। তদন্তে জানা গেছে, জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে তিনি অত্যন্ত গোপনে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য মাদক ও যৌনকর্মীদের নিয়ে বিশেষ প্রাইভেট পার্টির আয়োজন করতেন। পরবর্তীতে ওই পার্টিতে তোলা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করতেন তিনি।

সহিংসতা ও হুমকির ভয়ংকর জাল

শুধুমাত্র ব্যাংক জালিয়াতিই নয়, মহেন্দরের বিরুদ্ধে ভাড়াটে সশস্ত্র গুন্ডাবাহিনী দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি অভিজাত হোটেল ও রেস্তোরাঁ জবরদখল করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে। তার এই বেআইনি কাজের প্রতিবাদ করলেই কর্মচারীদের খুন করার হুমকি দেওয়া হতো। ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে তিনি নিয়মিত সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের আশ্রয় নিতেন। সম্প্রতি আরেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে রিয়েল এস্টেট জালিয়াতির ঘটনায় সালিশি আদালত তাকে ১৩০ কোটি ডলার জরিমানার নির্দেশ দেয়। ব্যাংক বাদে আর কোথায় কোথায় তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতে যেমন আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, তেমনি অভিযুক্তের ব্যক্তিগত জীবনে নেমে এসেছে আইনি চরম বিপর্যয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *