৯ টাকা ইনক্রিমেন্ট! আইটি ইঞ্জিনিয়ারের কপালে জুটল চরম অপমান

৯ টাকা ইনক্রিমেন্ট! আইটি ইঞ্জিনিয়ারের কপালে জুটল চরম অপমান

আইটি খাতের চাকরিতে কি তবে ‘আধুনিক দাসত্ব’? ৯ টাকা বেতন বৃদ্ধি করে বিতর্কে বহুজাতিক সংস্থা

তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতের চাকরিতে আকাশচুম্বী বেতন এবং রাজকীয় সুযোগ-সুবিধার প্রচলিত ধারণাটি এখন প্রশ্নের মুখে। দিল্লির একটি বহুজাতিক সংস্থায় (MNC) কর্মরত এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ যখন মাত্র ৯ টাকা, তখন করপোরেট বিশ্বের ‘বিষাক্ত কর্মপরিবেশ’ বা টক্সিক ওয়ার্ক কালচার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দিনরাত কঠোর পরিশ্রমের পর এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধিকে ওই কর্মী এবং নেটিজেনরা ‘পদ্ধতিগত অপমান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কঠোর পরিশ্রমের বিপরীতে অবহেলার চিত্র

দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের ওই টেক প্রফেশনাল রেডিট প্ল্যাটফর্মে তার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। ২০২৪ সালে ৪.২৫ লাখ টাকার বার্ষিক প্যাকেজে ইন্টার্নশিপ শেষ করে তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিযুক্ত হন। ক্লায়েন্টের চাহিদা মেটাতে তিনি তার ব্যক্তিগত সময়ের তোয়াক্কা করেননি এবং যাতায়াতের ন্যূনতম খরচ না পেয়েও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন। তবে ২০২৫ সালের বার্ষিক মূল্যায়নে তার বেতন বৃদ্ধি করা হয় মাত্র ৯ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৬ সালে প্রবেশ করেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং সুযোগ-সুবিধার নামে তার বেতন থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

বন্ড ও নোটিশ পিরিয়ড: মুক্তির পথে বাধা

এই প্রতিবেদনে করপোরেট চুক্তির এক জটিল ও চাপিয়ে দেওয়া বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। ওই ইঞ্জিনিয়ারের জন্য চাকরি ছেড়ে বেরিয়ে আসা প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ:

  • বন্ডের বোঝা: দুই বছরের বন্ড চুক্তির কারণে চাকরি ছাড়তে হলে তাকে ১.৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
  • দীর্ঘ নোটিশ পিরিয়ড: ইস্তফা দেওয়ার পর তাকে আরও ৬ মাস বাধ্যতামূলকভাবে কাজ করতে হবে।
  • গ্রেডিংয়ের ভয়: অন্য কোনো প্রজেক্টে যাওয়ার আবেদন করলে সংস্থাটি প্রতিহিংসামূলকভাবে তার পারফরম্যান্স গ্রেড কমিয়ে দিচ্ছে, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

বাজার বিশ্লেষণ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের মতে, বর্তমান যুগে এক কাপ চায়ের দামও ৯ টাকার বেশি, সেখানে একজন উচ্চশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ারের মেধার মূল্য নির্ধারণ করা চরম লজ্জাজনক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যয় সংকোচন এবং অটোমেশনের দোহাই দিয়ে অনেক আইটি সংস্থা কর্মীদের ওপর এক ধরণের ‘আধুনিক দাসত্ব’ চাপিয়ে দিচ্ছে। যেখানে ই-কমার্স বা ফিন্যান্সের মতো খাতে ১০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে, সেখানে আইটি খাতের এমন নিম্নমুখী প্রবণতা মেধাবী তরুণদের পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবতে বাধ্য করছে।

এক ঝলকে

  • ঘটনা: দিল্লির এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে মাত্র ৯ টাকা।
  • শর্ত: ২ বছরের বন্ড এবং চাকরি ছাড়লে ১.৫ লাখ টাকা জরিমানার চুক্তি।
  • নোটিশ পিরিয়ড: ইস্তফার পর ৬ মাস কাজ করা বাধ্যতামূলক।
  • অভিযোগ: অতিরিক্ত কাজের চাপ, যাতায়াত ভাতা না পাওয়া এবং বেতন থেকে অর্থ কর্তন।
  • প্রতিক্রিয়া: করপোরেট দুনিয়ায় ‘টক্সিক ওয়ার্ক কালচার’-এর চরম উদাহরণ হিসেবে এই ঘটনা চিহ্নিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *