লেটেস্ট নিউজ

বিশ্বে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের: জনপ্রিয় মানবাধিকার কর্মীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইসলামাবাদ: আন্তর্জাতিক মহলে আবারও অস্বস্তিতে পাকিস্তান সরকার। সে দেশের আদালত সম্প্রতি একজন প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী ইমান মজারি এবং তাঁর স্বামী হাদি আলি চাট্টাকে এই সাজা শোনানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সাইবার সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ

সূত্রের খবর, ইসলামাবাদ আদালতের দাবি অনুযায়ী ইমান তাঁর ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে অত্যন্ত আপত্তিকর বিষয়বস্তু পোস্ট করেছিলেন। আদালতের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দম্পতিকে ‘সাইবার সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর’ মতো তিনটি গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে ইমান ও তাঁর স্বামীকে আগামী ১০ বছর জেলে কাটাতে হবে।

গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক

সাজা ঘোষণার ঠিক পরেই পাকিস্তান পুলিশ এই দম্পতিকে অত্যন্ত অমর্যাদাকরভাবে গ্রেফতার করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যখন তাঁরা আদালতের শুনানির জন্য যাচ্ছিলেন, তখন পুলিশের গাড়ি তাঁদের ধাওয়া করে। মাঝপথে একটি আন্ডারপাসের নিচে মাস্ক পরা নিরাপত্তা আধিকারিকরা তাঁদের গাড়ি থামিয়ে একপ্রকার জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান।

ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ ওয়াজিদ আলি শাহ গিলানি এক বিবৃতিতে পুলিশের এই দুর্ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সেনেটের বিরোধী দলনেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এই রায়কে একটি ‘ভয়াবহ বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সরকারের সমালোচনাকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কে এই ইমান মজারি?

ইমান মজারি পাকিস্তানের প্রাক্তন মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারির কন্যা এবং তাঁর বাবা ছিলেন দেশের একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক। দীর্ঘ সময় ধরে ইমান পাকিস্তানের বালোচ নিখোঁজ ইস্যুসহ একাধিক সংবেদনশীল বিষয়ে সরব থেকেছেন। এছাড়াও, পাকিস্তানে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সামনের সারিতে ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *