পাহাড়ের লড়াইয়ে একজোট বিমল ও রাজু বিস্তা, কার্শিয়াংয়ের মিছিলে গরহাজির জোটসঙ্গী জিএনএলএফ

পাহাড়ের রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের লড়াইয়ে এবার এক ফ্রেমে ধরা দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং এবং সাংসদ রাজু বিস্তা। বৃহস্পতিবার কার্শিয়াংয়ে বিজেপি প্রার্থী সোনম লামার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মিছিলে পা মেলালেন দুই হেভিওয়েট নেতা। আসন্ন নির্বাচনে কালিম্পং ও কার্শিয়াং আসনে বিজেপি নিজেদের প্রার্থী দিলেও দার্জিলিং আসনে লড়ছে বিমল গুরুংয়ের মোর্চা। তবে পাহাড়ে এই জোট সমীকরণের মধ্যেই কার্শিয়াংয়ের বিশাল মিছিলে বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জোটসঙ্গী জিএনএলএফ-এর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে।
এদিনের জনসভা থেকে জিটিএ প্রধান অনিত থাপা ও ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে (বিজিপিএম) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিমল গুরুং ও রাজু বিস্তা। গুরুংয়ের দাবি, বিজিপিএম এমন প্রার্থী দিয়েছে যাকে সাধারণ মানুষ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে তাঁদের জোটের ভূমিপুত্র প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। ১৯৮৬ সাল থেকে অপরাজেয় থাকার রেকর্ড বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, গতবার জোট না হওয়াটা ভুল ছিল, তবে এবার কালিম্পং বাদে বাকি সব আসনেই জয় দেখছেন তিনি। অন্যদিকে রাজু বিস্তা দাবি করেন, পাহাড়বাসীর উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছে মোদীর ওপর মানুষের ভরসা অটুট।
তৃণমূল স্তরের সমীকরণ বদলালেও জিএনএলএফ-এর দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। গতবারের বিধায়ক নীরজ জিম্বা টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত নীরবতা পালন করছেন। তবে নির্বাচনে তাঁরা শেষ পর্যন্ত কার পাশে থাকবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জোটের অন্দরে এই টানাপোড়েনের মাঝেই কার্শিয়াং ও কালিম্পং দখল করে জিটিএ হস্তগত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন রাজু বিস্তা। পাহাড়ে গোর্খা সেন্টিমেন্ট ও উন্নয়নের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
