শান্তিতে ভোট করাতে লাঠির ওপর ভরসা রাখছে নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এক অভাবনীয় কৌশল গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের শীতলকুচিতে ঘটে যাওয়া হিংসা ও গুলিবর্ষণের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কমিশন আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়ে লাঠি ব্যবহারের ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য ৭৫ হাজার লাঠি
নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের জন্য বিশেষভাবে ৭৫,০০০ লাঠির অর্ডার দিয়েছে। আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের কাছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থাকলেও, ভিড় সামলাতে বা ছোটখাটো গোলমাল থামাতে লাঠিকেই প্রাথমিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত বিএসএফ (BSF) এবং এসএসবি (SSB)-র মতো বাহিনীর জন্য এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেহেতু এই বাহিনীর জওয়ানদের পুলিশ বা সিআরপিএফ-এর মতো লাঠি চালনায় বিশেষ অনুশীলন থাকে না, তাই তাদের এবার আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন
এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা রাজ্যকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ২,৫৫০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।
- ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সব বাহিনী রাজ্যে পৌঁছে যাবে।
- প্রতি বুথে অন্তত চারজন করে জওয়ান মোতায়েন থাকবেন।
- ২ লক্ষেরও বেশি জওয়ান সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন।
প্রযুক্তির ব্যবহার ও কড়া নজরদারি
হিংসা রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়ার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা:
- কন্ট্রোল রুম থেকে ৭৫০টি ক্যামেরার লাইভ ফিড পর্যবেক্ষণ করা হবে।
- ২০০ জন মাইক্রো-অবজারভার সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন।
- জওয়ানদের পোশাকে বডি ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ঘটনার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে নির্বাচন কমিশনের এই ‘লাঠি নীতি’ এবং প্রযুক্তিগত কড়াকড়ি বাংলার ভোটকে কতটা শান্তিপূর্ণ করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- বাহিনীর হাতে থাকবে ৭৫,০০০ বিশেষ লাঠি।
- মোতায়েন করা হচ্ছে রেকর্ড ২,৫৫০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
- বিএসএফ ও এসএসবি জওয়ানদের দেওয়া হবে লাঠি চালনার প্রশিক্ষণ।
- নজরদারির জন্য থাকছে ২০০ জন মাইক্রো-অবজারভার ও বডি ক্যামেরা।
- লক্ষ্য: প্রাণহানি রোধ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সফট স্কিল ব্যবহার।
