তেজস যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন সারাই হবে দেশেই, বায়ুসেনা ও জিই অ্যারোস্পেসের ঐতিহাসিক চুক্তি

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) এবং বিশ্বখ্যাত সংস্থা জিই অ্যারোস্পেসের মধ্যে একটি মাইলফলক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানের শক্তিশালী ইঞ্জিনের সার্ভিসিং ও রক্ষণাবেক্ষণ বিদেশের পরিবর্তে ভারতেই সম্পন্ন হবে।
অত্যাধুনিক ইঞ্জিন ডিপো স্থাপনের পথে ভারত
এই চুক্তির কেন্দ্রীয় বিষয় হলো ভারতে F404-IN20 ইঞ্জিনের জন্য একটি বিশেষায়িত ও অত্যাধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র বা ডিপো স্থাপন করা। হালকা ওজনের তেজস যুদ্ধবিমানকে আকাশপথে ক্ষিপ্রতা প্রদান করে এই ইঞ্জিনটিই। বর্তমানে বায়ুসেনার বহরে ৪০টি তেজস Mk1 বিমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ১৮০টি তেজস Mk1A বিমান যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়। এই বিশাল সংখ্যক বিমানের কর্মক্ষমতা ও দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার জন্য দেশের মাটিতেই ইঞ্জিনের সার্ভিসিং সুবিধা থাকা একপ্রকার অনিবার্য ছিল।
নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা বায়ুসেনার হাতে
এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর মালিকানা ও পরিচালনার পূর্ণ কর্তৃত্ব। নতুন এই রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে ভারতীয় বায়ুসেনার ওপর। জিই অ্যারোস্পেস এখানে প্রযুক্তিগত পার্টনার হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করবে। এর ফলে একদিকে যেমন গোপন সামরিক প্রযুক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পরিচালনার ক্ষেত্রেও ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে।
প্রতিরক্ষা ও রণকৌশলগত প্রভাব বিশ্লেষণ
এই চুক্তির ফলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে চলেছে
১. সময় ও আর্থিক সাশ্রয় পূর্বে তেজসের ইঞ্জিন মেরামতির জন্য বিদেশে পাঠাতে হতো, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি ছিল। এখন দেশের মাটিতেই এই পরিষেবা পাওয়া যাওয়ায় তেজস বিমানগুলো অনেক দ্রুত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।
২. অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমলে জরুরি অবস্থায় বা যুদ্ধের সময় বিমানের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে। এটি বায়ুসেনার তেজস স্কোয়াড্রনের সামগ্রিক শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
৩. কারিগরি উন্নয়ন জিই অ্যারোস্পেসের বিশেষজ্ঞদের থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন বায়ুসেনার কর্মীরা। এর ফলে ভারতে উচ্চমানের কারিগরি দক্ষতা তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তিতে আরও উন্নত ইঞ্জিন তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অংশীদারিত্ব ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও স্বাবলম্বী করে তুলবে। বর্তমানে বায়ুসেনার অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং নৌসেনার P-8I বিমানেও জিই-র ইঞ্জিন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে এই সংস্থার গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
এক ঝলকে
ভারতীয় বায়ুসেনা ও জিই অ্যারোস্পেসের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন।
তেজস বিমানের F404-IN20 ইঞ্জিনের মেরামতি ও সার্ভিসিং এখন ভারতেই হবে।
বিদেশে ইঞ্জিন পাঠানোর দীর্ঘসূত্রতা কাটবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রের সম্পূর্ণ মালিকানা ও পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে।
১৮০টিরও বেশি আসন্ন তেজস Mk1A বিমানের রক্ষণাবেক্ষণে এই কেন্দ্রটি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
