কলকাতায় নজিরবিহীন পুর-অচলাবস্থা, ফিরহাদের ইস্তফা জল্পনায় কি যবনিকা পড়বে? – এবেলা

কলকাতায় নজিরবিহীন পুর-অচলাবস্থা, ফিরহাদের ইস্তফা জল্পনায় কি যবনিকা পড়বে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা পুরসভাকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। একদিকে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ নিয়ে তীব্র জল্পনা, অন্যদিকে একাধিক কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি ও গ্রেফতারির জেরে থমকে গেছে নাগরিক পরিষেবা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শহরের এই ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক ভবনে যে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল, তা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মেয়রের ইস্তফা বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। কুণাল দাবি করেছেন, পুরসভায় কাজ করতে না পেরে ফিরহাদ হাকিম সম্মানজনক নিষ্কৃতি চেয়েছেন এবং দলনেত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন। যদিও মেয়র নিজে এই সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেছেন এবং পুর চেয়ারপার্সন মালা রায় কিংবা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য থাকার কথা মেলাননি। এই টানাপড়েনের মাঝেই বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সমন্বয়ের অভাব

এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে শাসকদলের অন্দরের তীব্র সমীকরণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা। রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতায় দলের আশানুরূপ ফল না হওয়ার কারণে পুরপরিষেবার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন দলনেত্রী, যা মেয়রের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এড়িয়ে ফিরহাদের পুরসভায় চলে যাওয়া নেত্রীর উষ্মা আরও বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, পুর কমিশনারের সঙ্গে মেয়রের এক্তিয়ার সংক্রান্ত সংঘাত এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, পুর অধিবেশন ডাকা নিয়ে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।

পরিষেবা বিপর্যয় ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

১৪২টি আসনের মধ্যে শাসকদলের পাঁচজন কাউন্সিলর বর্তমানে গ্রেফতার হয়েছেন, এবং দুই জন বরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। বড় অংশের কাউন্সিলরদের নিষ্ক্রিয়তা এবং নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষ পুর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে প্রাক্তন সফল মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে পুনরায় কান্ডারি হিসেবে ফিরিয়ে আনার একটি জল্পনা তৈরি হয়েছে। শোভনবাবু নিজে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সাহায্য করার ইঙ্গিত দিলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আগামী ১৯ জুন আদালতের নির্দেশ মেনে চেয়ারপার্সন মালা রায় যে পুর অধিবেশন ডেকেছেন, সেখানে কাউন্সিলরদের উপস্থিতি এবং মেয়রের পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে কলকাতার মহানাগরিক পদের ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *