রণক্ষেত্র ধাপা! বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড!

রণক্ষেত্র ধাপা! বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: প্রচারের শুরুতেই রাজনৈতিক উত্তাপে তপ্ত তিলোত্তমা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগে থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের ধাপা এলাকা এবং বরাহনগরের ঘটনা সেই উত্তাপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই তীব্র হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে ঘিরে এন্টালিতে তুমুল উত্তেজনা

মঙ্গলবার সকালে এন্টালি বিধানসভা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী ও বিশিষ্ট আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন আচমকাই কিছু মহিলা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই হামলার পেছনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। বিক্ষোভকারী ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। ঘটনাটি এতটাই চরম আকার নেয় যে, প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজেপি কর্মীরা লালবাজারের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বরাহনগরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরব সজল ঘোষ

নির্বাচনী অশান্তি কেবল এন্টালিতেই থেমে থাকেনি। সোমবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগরে ঘটেছে অপর এক সংঘাতের ঘটনা। বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচার শেষ করে ফেরার পথে তাঁর দলের কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সজল ঘোষ স্বয়ং থানায় অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। বরাহনগরে ইভিএম সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আগে থেকেই যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল, এই সংঘর্ষ তাতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

সংঘাতের নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের সংঘর্ষ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কলকাতা ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলগুলোতে বুথ স্তরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো যে মরিয়া, এই ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ। ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার লক্ষ্যে ভোটারদের প্রভাবিত করার পাশাপাশি বিপক্ষ দলকে চাপে রাখার এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে এই অসহিষ্ণুতা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আসন্ন দিনগুলোতে আরও বড় সংঘাতের পূর্বাভাস দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।

এক ঝলকে

নির্বাচনী আবহে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তাপ ও সংঘর্ষের ঘটনা।

এন্টালির ধাপায় বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে ঘিরে মহিলাদের বিক্ষোভ ও ধস্তাধস্তি।

তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের হিমশিম।

বিজেপি প্রার্থীর নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে লালবাজারে দলীয় কর্মীরা।

বরাহনগরে প্রচারের সময় হামলা; থানার সামনে প্রতিবাদে শামিল সজল ঘোষ।

ভোটের আগে জননিরাপত্তা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *