আমেরিকার বিরুদ্ধে কি যুদ্ধ ঘোষণা করবেন কিম? ‘ব্ল্যাকআউট বোমা’য় কাঁপছে বিশ্ব!

আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান সংকট নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কোরীয় উপদ্বীপ। উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন একের পর এক অত্যাধুনিক অস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। পিংইয়ংয়ের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিম জং উনের সামরিক সক্ষমতা ও নতুন আতঙ্ক
সম্প্রতি কিম জং উনের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া বেশ কিছু উন্নত সমরাস্ত্রের সফল মহড়া সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘ব্ল্যাকআউট বোমা’ বা কার্বন ফাইবার বোমা। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রথাগত যুদ্ধের ধারণাকে বদলে দিতে সক্ষম। ক্লাস্টার বোমা এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি এই ব্ল্যাকআউট বোমার পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্ল্যাকআউট বোমার ভয়াবহতা
কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি এই অস্ত্রটি মূলত একটি দেশের অবকাঠামো ধ্বংস না করেও গোটা রাষ্ট্রকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- এই বোমা কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর কার্বন ফাইবারের সূক্ষ্ম তন্তু ছড়িয়ে দেয়।
- তন্তুগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রবেশ করে সেটিকে সম্পূর্ণভাবে অকেজো করে দেয়।
- শহর বা পুরো দেশকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অন্ধকারে বা ব্ল্যাকআউট অবস্থায় ফেলে দেয়।
- একটি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস না করেই পঙ্গু করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও থাড বিতর্ক
উত্তর কোরিয়ার এই উসকানিমূলক কার্যক্রমের মাঝে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা উন্নত ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে সিউল প্রবল আপত্তি জানালেও তা ধোপে টেকেনি। ফলে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এই সুযোগটিই কিম জং উন তার সামরিক মহড়ার মাধ্যমে ব্যবহার করছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ট্রাম্পের জন্য বহুমুখী কৌশলগত সংকট
বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী, কিম জং উনের এই আগ্রাসী মনোভাব কাকতালীয় নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অস্থিরতা এবং ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনকে দুই বা ততোধিক রণাঙ্গনে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছেন কিম। যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলে কোরীয় উপদ্বীপের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করাই তার মূল লক্ষ্য। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ওয়াশিংটনের এই সামরিক মতপার্থক্য সিউল ও ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায়, কোরীয় উপদ্বীপে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্র বা সংকট তৈরির সম্ভাবনা এখন সময়ের দাবি।
এক ঝলকে
- উত্তর কোরিয়ার ব্ল্যাকআউট বোমা ও ক্লাস্টার বোমার সফল সামরিক মহড়া সম্পন্ন।
- ব্ল্যাকআউট বোমার কার্বন ফাইবার প্রযুক্তি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করে শহরকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করতে সক্ষম।
- দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ।
- ইরান ও ইউক্রেন সংকটের মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কিম জং উন এক নতুন আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত।
- দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।
