বাবার রূপেই লুকিয়ে ছিল পিশাচ, ১০ বছরের বীভৎস অভিজ্ঞতায় শিউরে উঠল দেশ!

বাবার রূপেই লুকিয়ে ছিল পিশাচ, ১০ বছরের বীভৎস অভিজ্ঞতায় শিউরে উঠল দেশ!

দিল্লির বুরারি এলাকায় ঘটে যাওয়া এক নারকীয় ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিজের জন্মদাত্রী মেয়ের ওপর পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠল এক বাবার বিরুদ্ধে। সম্পর্কের পবিত্রতা ও বিশ্বাসের চরম অবমাননা করে এক ব্যক্তি যেভাবে নিজ কন্যাকে বন্দি করে নির্যাতনের শিকার বানিয়েছেন, তা আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার নিরাপত্তাহীনতাকে প্রকট করে তুলেছে।

দীর্ঘ এক দশকের নীরব যন্ত্রণা

নিগৃহীতা তরুণী বর্তমানে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে শুরু হয় এই পৈশাচিক অধ্যায়। পড়াশোনার প্রয়োজনে বাবার সঙ্গে দিল্লিতে থাকাকালীনই প্রথমবার যৌন লালসার শিকার হন তিনি। অভিযুক্ত বাবা প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ সময় মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছিল তাকে। বাবা-মেয়ের এই পবিত্র সম্পর্কে যে অন্ধকার দিকটি প্রকাশ্যে এসেছে, তা প্রতিটি পরিবার ও অভিভাবকের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।

পরিবারের ভূমিকা ও সামাজিক অবক্ষয়

এই ঘটনার সবচেয়ে দুঃখজনক দিকটি হলো তরুণীর মায়ের মানসিকতা। ভুক্তভোগী ১৬ বছর বয়সে যখন মাকে সমস্ত ঘটনা জানিয়েছিলেন, তখন মা তাকে সুরক্ষা প্রদানের পরিবর্তে চুপ থাকার জন্য ভয় দেখান। অভিযুক্ত বাবার অপরাধ ধামাচাপা দিতে মায়ের এই ভূমিকা প্রমাণ করে যে, অনেক সময় পারিবারিক সম্মানের দোহাই দিয়ে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। ঘরের মানুষই যখন নিরাপত্তার পরিবর্তে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন একজন তরুণীর জন্য বেঁচে থাকা কতটা কঠিন হতে পারে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।

সাহসিকতার জয় ও আইনের পথে লড়াই

বছরের পর বছর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে তরুণী গভীর অবসাদে গ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিলাসপুরের এইমস হাসপাতালে কাউন্সেলিং চলাকালীন তিনি তার যন্ত্রণার কথা জানান। এরপর অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে তিনি এক আসাম সাহসী পদক্ষেপ নেন। বাবার কুকীর্তির ভিডিও গোপনে নিজের মোবাইলে রেকর্ড করেন তিনি। এই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই বুরারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। পুলিশ এখন পকসো (POCSO) আইনসহ ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

সমাজ ও সংবেদনশীলতা

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) তথ্য অনুযায়ী, মহিলাদের ওপর হওয়া অধিকাংশ নির্যাতনের মূলে থাকেন পরিবারের পরিচিত জন বা আত্মীয়রা। এই ঘটনা সেই পরিসংখ্যানকে আরও একবার ভয়াবহভাবে সত্য প্রমাণ করল। তরুণীর এই লড়াই কেবল এক অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার লড়াই নয়, বরং নীরবতা ভেঙে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার এক অনন্য উদাহরণ।

এক ঝলকে

ঘটনার স্থান: বুরারি, দিল্লি (মূল বাসিন্দা বিহার)।
নির্যাতিতার বয়স: বর্তমান বয়স ২১ বছর (১১ বছর বয়স থেকে নির্যাতনের শুরু)।
অভিযুক্ত: নির্যাতিতার নিজের বাবা।
বিস্ফোরক অভিযোগ: মা সব জেনেও চুপ থাকতে বাধ্য করেছিলেন।
প্রমাণ: তরুণী নিজের মোবাইলে বাবার কুকীর্তির ভিডিও রেকর্ড করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত বাবা শ্রীঘরে, মামলা দায়ের করা হয়েছে পকসো আইনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *