পোপের অপমান সহ্য নয়! মেলোনির কড়া জবাবে ইজরায়েলের ওপর বড় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’

পোপের অপমান সহ্য নয়! মেলোনির কড়া জবাবে ইজরায়েলের ওপর বড় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’

ইজরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল ইতালির, বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল

পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিল। দীর্ঘ দুই দশকের কূটনৈতিক বন্ধুত্ব ও সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক ছিন্ন করে ইজরায়েলের সঙ্গে সমস্ত প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এই সিদ্ধান্তের ফলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত গবেষণা—কোনো ক্ষেত্রেই আর ইজরায়েলকে সাহায্য করবে না ইতালি।

হঠাৎ কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

ভেরোনায় এক সংবাদ সম্মেলনে মেলোনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির নিরিখেই এই কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচ্ছেদের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কূটনৈতিক ও কৌশলগত কারণ:

  • লেবাননে হামলা ও ইতালীয় কর্মীদের নিরাপত্তা: সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তি রক্ষা বাহিনীতে কর্মরত ইতালীয় কর্মীদের লক্ষ্য করে ইজরায়েলি সেনার হামলার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা রোমের সরকারি মহলে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়।
  • কূটনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা: ইতালির বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি প্রকাশ্যে ইজরায়েলের হাতে নিরীহ নাগরিক হত্যার নিন্দা করেছেন। এই কড়া অবস্থান দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে তুঙ্গে নিয়ে যায়।

ট্রাম্পের সঙ্গেও কি সংঘাতের আবহ?

শুধু ইজরায়েল নয়, আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন মেলোনি। পোপ ফ্রান্সিসের প্রতি ট্রাম্পের আসাম্মানজনক মনোভাবের প্রতিবাদ জানিয়ে মেলোনি বলেন, ধর্মীয় গুরুদের রাজনীতিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে—এমন সমাজব্যবস্থায় তিনি বিশ্বাসী নন। এছাড়া, ন্যাটো (NATO) নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবেও ইতালি গত দু’দশকে আমেরিকার প্রতি তাদের সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেনের হামলার পর ইতালির সেনাবাহিনী যেভাবে হোয়াইট হাউসের পাশে দাঁড়িয়েছিল, মেলোনির বক্তব্যে সেই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সুর স্পষ্ট।

এক ঝলকে

  • বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট: ২০০৬ সালে শুরু হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা প্রতি ৫ বছর অন্তর পুনর্নবীকরণ করা হতো, তা এবার চিরতরে বন্ধ হলো।
  • বাতিল হওয়া সহযোগিতা: M-346 যুদ্ধবিমান, OPTSAT-300 স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে ইতালি সরে এসেছে।
  • কার্যকরী সময়: ২০২৪ সাল থেকেই নতুন করে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেছিল ইতালি, এবার তা দাপ্তরিকভাবে বাতিল করা হলো।
  • মূল কারণ: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং লেবাননে ইতালীয় শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মেলোনির এই সাহসী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইজরায়েলকে কিছুটা হলেও বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এখন দেখার বিষয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোও ইতালির পদাঙ্ক অনুসরণ করে কি না। গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক মহল বর্তমানে ইতালির এই নতুন পররাষ্ট্রনীতির প্রভাব পর্যালোচনায় ব্যস্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *