TMC-তে থাকা পাপ ছিল, প্রায়শ্চিত্ত করছি! ভরা জনসভায় হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইলেন শিশির অধিকারী!

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: পুত্রের প্রচারে আবেগি শিশির অধিকারী, রাজনীতির আঙিনায় নতুন সমীকরণ
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এর মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার জনসভায় দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য। একসময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত প্রবীণ রাজনীতিক শিশির অধিকারী নিজের পুত্র তথা বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর সমর্থনে প্রচার করতে গিয়ে সরাসরি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন। তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মঞ্চে নতজানু হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা ও আবেগঘন মুহূর্ত
এগরা বিধানসভার অলগিরিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ৮০ বছর বয়সী শিশির অধিকারী হঠাৎই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সভার মঞ্চেই তিনি আচমকা হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন এবং মাথা নিচু করে উপস্থিত জনতাকে প্রণাম জানান। গলায় উত্তরীয় জড়িয়ে তিনি অত্যন্ত করুণ স্বরে জানান যে, দীর্ঘসময় তৃণমূল কংগ্রেসে থাকা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় ভুল। নিজের সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে তিনি সরাসরি ‘পাপ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বিনম্র চিত্তে জানান যে, এখন তিনি সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চান।
পুত্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও মেদিনীপুরের নির্বাচনী সমীকরণ
এই জনসভাটি মূলত এগরা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর জয়ের লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল। পুত্রের হয়ে ভোট প্রচার করতে গিয়ে শিশিরবাবু হাত জোড় করে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, দিব্যেন্দু এই এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। একইসঙ্গে ভোটারদের কাছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভুলের মার্জনা চেয়ে বিজেপি তথা ‘পদ্ম’ চিহ্নে ভোট দিয়ে রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দেন প্রবীণ এই নেতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশির অধিকারীর এই পদক্ষেপ কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুনিপুণ নির্বাচনী কৌশল। পূর্ব মেদিনীপুর বরাবরই অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ভোটদাতাদের সঙ্গে সরাসরি আবেগীয় সংযোগ স্থাপন করে নিজের প্রভাব বজায় রাখতেই এই ‘ইমোশনাল কার্ড’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিরোধী শিবিরের একাংশ একে রাজনৈতিক নাটক হিসেবে অভিহিত করলেও, স্থানীয় স্তরে শিশির অধিকারীর এই আবেদন জনমতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভোটের আগে মেদিনীপুরে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে শিশির অধিকারীর এই আত্মসমর্পণমূলক ভঙ্গি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দুই দফার ভোটগ্রহণে এই আবেগ কতখানি ভোটে রূপান্তরিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু: পুত্র দিব্যেন্দু অধিকারীর সমর্থনে জনসভা।
- স্থান: এগরার অলগিরি, পূর্ব মেদিনীপুর।
- মূল বার্তা: গতানুগতিক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকাকে ‘পাপ’ বলে অভিহিত করে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা।
- ভঙ্গি: প্রকাশ্য মঞ্চে হাঁটু গেড়ে বসে জনতাকে প্রণাম ও মার্জনা ভিক্ষা।
- নির্বাচনী লক্ষ্য: ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে আবেগি কৌশলের মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়।
