পেটিএম-এর নতুন মালিক এখন ভারতীয়রা, খেল খতম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের!

পেটিএম এখন পুরোপুরি দেশি: মালিকানায় ভারতীয়দের আধিপত্য ও ব্যবসায়িক সাফল্যের নতুন মাইলফলক
ফিনটেক জগতের পরিচিত নাম পেটিএম (ওয়ান৯৭ কমিউনিকেশনস লিমিটেড) এখন কেবল নামেই নয়, মালিকানাতেও সম্পূর্ণভাবে ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে সংস্থাটিতে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব ৫০.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এই মাইলফলকটি পেটিএমকে একটি প্রকৃত ভারতীয় মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত সংস্থায় রূপান্তর করেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে দেশি বিনিয়োগকারীদের এই ক্রমবর্ধমান আস্থা সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মালিকানা কাঠামোয় বড় বদল
শেয়ার বাজারে পেশ করা তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত মার্চ ত্রৈমাসিক সংস্থাটির মালিকানা কাঠামোয় এক বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব ৯.১ শতাংশ বেড়েছে। আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ২.৮ শতাংশ বেড়ে এটি রেকর্ড ২৩.১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মূলত বিদেশি পুঁজির পরিবর্তে ভারতীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহই এই পরিবর্তনের মূল অনুঘটক।
মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমা সংস্থার দাপট
পেটিএম-এর মালিকানা পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমা কো ম্পা নিগুলো। পরিসংখ্যানে লক্ষ্য করার মতো বিষয়গুলো হলো:
- মিউচুয়াল ফান্ডের অংশীদারিত্ব ১৪.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
- মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারী ফান্ডের সংখ্যা ৩৬ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪১-এ দাঁড়িয়েছে।
- বিমা কো ম্পা নিগুলোর মালিকানাধীন অংশ বেড়ে ৫.১ শতাংশ হয়েছে।
- টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং এসবিআই লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতো বড় সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।
ব্যবসায়িক সাফল্য ও মুনাফার পথে উত্তরণ
মালিকানা পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে পেটিএম। বিগত ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি টানা তিনবার মুনাফার মুখ দেখেছে। ওই সময়ে তাদের নিট লাভের পরিমাণ ছিল ২২৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে রাজস্ব ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,১৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পেটিএম প্ল্যাটফর্মে মার্চেন্টের সংখ্যা ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
ব্যাংক অফ আমেরিকা এবং বার্নস্টাইনের মতো খ্যাতনামা ব্রোকারেজ হাউসগুলো পেটিএম-এর এই নতুন অবস্থানকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেটিএম মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ঋণ প্রদানের মতো লাভজনক ক্ষেত্রগুলোতে নিজেদের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত করেছে। বিশেষ করে বার্নস্টাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলোর তুলনায় পেটিএম-এর মার্চেন্ট রাজস্ব প্রায় দ্বিগুণ। এই শক্তিশালী ব্যবসায়িক ভিত্তিই কো ম্পা নিটিকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্থিতিশীলতা জোগাচ্ছে।
এক ঝলকে
- দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মোট অংশীদারিত্ব: ৫০.৩ শতাংশ (রেকর্ড)।
- মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ: ১৬.৬ শতাংশ।
- ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে নিট লাভ: ২২৫ কোটি টাকা।
- মোট মার্চেন্ট সংখ্যা: ১ কোটি ৪৪ লক্ষের বেশি।
- রাজস্ব বৃদ্ধি: ২০ শতাংশ (বার্ষিক ভিত্তিতে)।
