জমির লোভে আটকে বাবার শেষকৃত্য! ২৩ ঘণ্টা পর দাহ করলেন ছেলে

জমির লোভে আটকে বাবার শেষকৃত্য! ২৩ ঘণ্টা পর দাহ করলেন ছেলে

হিমাচলের বলদেবগড় থানা এলাকার তালমাউ গ্রামে সম্পত্তির লোভে মানবিক মূল্যবোধের এক চরম অবক্ষয় প্রকাশ্যে এলো। পৈতৃক জমি ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে অস্বীকার করেন ছেলে। দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা বাড়িতেই পড়ে থাকে ৬৫ বছর বয়সী চিন্না আহিরওয়ারের নশ্বর দেহ। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়।

জমি নিয়ে বিরোধের নেপথ্য কারণ

ঘটনার সূত্রপাত ৬৫ বছর বয়সী চিন্না আহিরওয়ারের মালিকানাধীন দুই একর জমিকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি তিনি লক্ষ্য করেন, কিষাণ সম্মান নিধির সরকারি অর্থ তাঁর অ্যাকাউন্টে আসছে না। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, তাঁর মেয়ে সুনিতা কৌশলে সম্পূর্ণ জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছেন। সম্পত্তি হাতবদলের বিষয়টিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন চিন্না। গত ১৫ দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মরদেহ নিয়ে অমানবিক দর কষাকষি

পিতার অসুস্থতার খবর পেয়ে নাগপুর থেকে বাড়িতে ফেরেন ছেলে রাজু আহিরওয়ার। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছে বাবার মৃত্যুসংবাদের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে জমি সংক্রান্ত জটিলতা। বোন সুনিতা জমি নিজের নামে করে নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যিনি সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন, তিনিই শেষকৃত্য সম্পন্ন করবেন। গ্রামবাসীদের অনুরোধ সত্ত্বেও রাজু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। ফলে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত বাবার মরদেহ সৎকার না করে ফেলে রাখা হয়।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও মীমাংসা

মরদেহ দাহ না হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে বলদেবগড় থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবি গুপ্তা, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও গ্রামবাসীরা উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর একটি আইনি সমাধান বেরিয়ে আসে:

সমাধানের রূপরেখা:

  • মৃত চিন্না আহিরওয়ারের দুই একর জমি ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমান দুই ভাগে ভাগ করা হবে।
  • আইনি স্ট্যাম্প পেপারে উভয় পক্ষকে এক একর করে জমির মালিকানা দেওয়ার লিখিত চুক্তি করা হয়।
  • সোমবার থেকে জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এই আলোচনার পর রাজু শান্ত হন এবং বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় রাজি হন। ঘটনার ২৩ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রভাব

আইনিভাবে সমস্যার সমাধান হলেও এই ঘটনা গ্রামীণ সমাজে এক গভীর ক্ষতের জন্ম দিয়েছে। সম্পত্তির লোভে সন্তান যখন নিজের পিতার মরদেহের সৎকার আটকে রাখে, তখন তা প্রচলিত সামাজিক ও নৈতিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আইন বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটে গেলেও, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৃষ্ট আস্থার অভাব কাটিয়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থেকে যায়।

এক ঝলকে

  • মৃতের নাম: চিন্না আহিরওয়ার (৬৫)।
  • বিবাদের মূল কারণ: বাবার দুই একর জমি গোপনে নিজের নামে হস্তগত করেন মেয়ে সুনিতা।
  • পারিবারিক সংকট: জমি ফিরে না পাওয়ায় বাবার শেষকৃত্যে অস্বীকৃতি জানান ছেলে রাজু।
  • মরদেহের দশা: প্রায় ২৩ ঘণ্টা সৎকারহীন অবস্থায় বাড়িতে পড়ে ছিল মরদেহ।
  • সমাধান: পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যস্থতায় জমি ভাই-বোনের মধ্যে সমান ভাগে বণ্টনের সিদ্ধান্ত।
  • বর্তমান অবস্থা: লিখিত আইনি আপসনামার পর শনিবার বিকেলে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *