‘ওরা আমাদের কাছে এলে আমরা ওদের ধ্বংস করে দেব’ ইরানের প্রতি ট্রাম্পের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন যুদ্ধের মেঘে আচ্ছন্ন। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের চারপাশ ঘিরে তাদের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে, যা কার্যত একটি ‘নৌ অবরোধে’ রূপ নিয়েছে। সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের ফলে ওই অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তেই সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অবরোধের নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো জাহাজকে সরাসরি আটক বা জব্দ করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বার্তা দিয়েছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র এবার কোনো প্রকার নমনীয়তা দেখাবে না।
ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল দিকগুলো হলো:
- ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের হুমকি: ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ছোট আক্রমণকারী নৌকাগুলো যদি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা অবরোধের সীমানার কাছাকাছি আসে, তবে সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘হত্যা ব্যবস্থা’ (Kill System) ব্যবহার করে নিশ্চিহ্ন করা হবে।
- নৌবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নৌ শক্তি ইতিমধ্যে পঙ্গু হয়ে গেছে এবং তাদের অন্তত ১৫৮টি জাহাজ সমুদ্রে ডুবে গেছে।
- কঠোর তুলনা: সমুদ্রপথে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যেমন দ্রুত ও নির্মম ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ইরানি জাহাজের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানও বসে নেই। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন আগ্রাসন বা তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। ইরান এই পরিস্থিতিকে সরাসরি যুদ্ধের উস্কানি হিসেবে দেখছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধের চেষ্টা করা হলে তারা ওই অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে।
অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিশ্লেষণ
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, অবরোধের মধ্যেও একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৩৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের কঠোর টহল এবং ইরানের পাল্টা হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই অঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধস নামতে পারে।
এক ঝলকে
- মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের চারপাশে কঠোর নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে।
- সেন্টকমকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজ জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন জাহাজের কাছে এলে ইরানি নৌকা ধ্বংস করা হবে।
- ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না।
- হরমুজ প্রণালীতে একদিনে রেকর্ড ৩৪টি জাহাজ চলাচল করলেও উত্তেজনা তুঙ্গে।
- এই সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
