মেয়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভাগ্নে! সচক্ষে এই দৃশ্য দেখে হাড়হিম কান্ড ঘটালেন মামা-মামি- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। পরিবারের এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে নিজের ২২ বছর বয়সী ভাগ্নেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগে মামা ও মামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৯ মার্চ ধর্মপুর গ্রামের একটি স্কুলের পাশ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ভানু প্রতাপ ওরফে সুধীর নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
বাহরাইচের ওরাই গ্রামের বাসিন্দা ভানু প্রতাপ তার মামা চেতরাম গৌতমের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে পরিবারের এক মেয়ের সঙ্গে ভানুকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন মামা চেতরাম ও তার স্ত্রী সুন্দরী দেবী। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে দম্পতি মিলে ভানুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তারা মরদেহটি একটি বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাইরে একটি সরকারি স্কুলের কাছে ফেলে দিয়ে আসেন। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে যুবকের গলায় দড়িও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্তকরণ
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) দুর্গাপ্রসাদ তিওয়ারি জানিয়েছেন যে ঘটনার পর নিহতের বাবা চেতরাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ড এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এই খুনের সঙ্গে চেতরাম ও তার স্ত্রী সরাসরি জড়িত। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত দম্পতি নিজেদের অপরাধ কবুল করেছেন।
সামাজিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ
এই ঘটনাটি সমাজে পারিবারিক সম্মান বা ‘অনার’ রক্ষার্থে চরম হিংয়ার একটি ভয়াবহ দিক তুলে ধরে। অনেক ক্ষেত্রে আইনি পথে না গিয়ে রাগের মাথায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কীভাবে একটি সাজানো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে এটি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত দম্পতিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচে ভাগ্নেকে খুনের অভিযোগে মামা ও মামি গ্রেফতার।
- নিহতের নাম ভানু প্রতাপ ওরফে সুধীর (২২)।
- পরিবারের এক মেয়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় এই হত্যাকাণ্ড।
- মরদেহ বস্তাবন্দি করে মোটরসাইকেলে করে স্কুলের পাশে ফেলে আসা হয়েছিল।
- সিসিটিভি এবং কল রেকর্ডের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করেছে পুলিশ।
