একটি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য ও নজরকাড়া শিরোনাম দিন। শিরোনামটি অবশ্যই কোলন (:) মুক্ত হতে হবে, তবে আবেগ বা গুরুত্ব বোঝাতে অন্যান্য যতিচিহ্ন (যেমন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ‘!’ বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ‘?’ কমা ‘,’) ব্যবহার করা যাবে। নিয়ম: – শুধুমাত্র ১টি শিরোনাম দেবেন – কোন ব্যাখ্যা, তালিকা বা একাধিক অপশন দেবেন না – শুধুমাত্র শিরোনামটি লিখবেন, অন্য কিছু নয় কারও আসন কমবে না, বরং বাড়বে! লোকসভায় ৮৫০ সদস্যের নতুন সমীকরণ বোঝালেন অমিত শাহ

লোকসভা আসন বৃদ্ধি: দক্ষিণের আশঙ্কা দূর করতে ‘নো-লস’ মডেলের পথে কেন্দ্র

দীর্ঘদিন ধরে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’ নিয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির মনে যে শঙ্কা ও উদ্বেগ ছিল, তা নিরসনের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আসন্ন আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ‘নো-লস’ বা ‘ক্ষতিহীন’ মডেলে। অর্থাৎ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলি যাতে কোনোভাবে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব না হারায়, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মোট আসনের সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

কীভাবে কাজ করবে এই নতুন মডেল?

সরকারের এই নতুন গাণিতিক মডেলে দেশের কোনো রাজ্যেরই আসন সংখ্যা কমার পরিবর্তে বৃদ্ধি পাবে। অমিত শাহর প্রস্তাব অনুযায়ী, তামিলনাড়ু (৩৯ থেকে ৫৯), কর্ণাটক (২৮ থেকে ৪২), অন্ধ্রপ্রদেশ (২৫ থেকে ৩৮), তেলেঙ্গানা (১৭ থেকে ২৬) এবং কেরলের (১৬ থেকে ২০) আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে জনসংখ্যায় ভারসাম্য রক্ষার বিতর্ক মেটাতেই কেন্দ্র এই পথ বেছে নিয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কোনো রাজ্যই বঞ্চিত হবে না, বরং মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার পথও সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘নো-লস’ মডেল একদিকে যেমন দক্ষিণী রাজ্যগুলির ক্ষোভ প্রশমিত করবে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এটি একটি রাজনৈতিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ হিসেবে দেখলেও, সরকারের দাবি, বৃহৎ পরিসরে আসন বৃদ্ধি করলে সমস্ত রাজ্যই আনুপাতিক হারে উপকৃত হবে। ২০২৬ সালের এই ডিলিমিটেশন ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, তবে ৮৫০ সদস্যের বিশাল সংসদ পরিচালনা করা প্রশাসনের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এক ঝলকে

  • লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা।
  • ডিলিমিটেশনে ‘নো-লস’ মডেল অনুসরণ করা হবে, ফলে কোনো রাজ্যের আসন সংখ্যা কমবে না।
  • জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়া দক্ষিণের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
  • আসন বৃদ্ধি মহিলা সংরক্ষণ বিলের ৩৩ শতাংশ কোটা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *