নারী সংরক্ষণ বিল কেন থমকে গেল সংসদে!

২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা নিয়ে ভারতজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আইনটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৩৫২ জন সদস্যের ভোট না পাওয়ায় সরকারের আনা সংশোধনী প্রস্তাবটি সংসদে আটকে গেছে। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ২৯৮ জন সদস্য ভোট দিলেও বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩০ জন সদস্য। ফলে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও আইনটি কার্যকর হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রে রয়েছে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’ সংক্রান্ত শর্ত। সরকারের প্রস্তাবে ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যার ফলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮০০ অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল ও ডিএমকে-সহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে সরকার রাজনৈতিক আধিপত্য বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের গুরুত্ব কমে যাবে। সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা, তবে সরকার একে একটি অপরিহার্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।
