অপরাজিতা বিলের অনুমোদন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন অভিষেক

অপরাজিতা বিলের অনুমোদন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন অভিষেক

আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে আনা ‘অপরাজিতা বিল’ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটিতে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এক সভা থেকে তিনি এই জোরালো সওয়াল করেন। অভিষেক জানান, এই আইনটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সাজা ৫০ দিনের মধ্যে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিজেপির দ্বিমুখী নীতি ও রাজনৈতিক সমালোচনা

বক্তব্য চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি শিবিরের কড়া সমালোচনা করে তাদের ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে বিজেপি নারী সুরক্ষার কথা বলে, অন্যদিকে অপরাধীদের সম্মান দেয়; যা বিচার প্রক্রিয়ার জন্য অন্তরায়। তৃণমূল নেতার দাবি, আরজি করের ঘটনায় রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু বিজেপি বিচার সুনিশ্চিত করার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিতেই বেশি সচেষ্ট ছিল।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের দাবি

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই স্পর্শকাতর সময়ে জলহাটির বিজেপি প্রার্থী ও আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের সাক্ষাৎকারের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, নির্যাতিতার পরিবারের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ কাম্য নয়। তিনি মনে করেন, শোকার্ত মানুষ অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মূলত আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নারী সুরক্ষা এবং দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারকেই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে।

এক ঝলকে

  • ধর্ষণের সাজা ৫০ দিনের মধ্যে কার্যকর করতে ‘অপরাজিতা বিল’ দ্রুত পাসের দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে বিলটি দ্রুত আইনে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
  • আরজি কর কাণ্ডে বিজেপির ভূমিকার সমালোচনা করে একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অভিষেক।
  • আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের আগে নারী নিরাপত্তা ইস্যুটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *