রাস্তার ধারের মোমো খেয়ে লিভার অকেজো! দিল্লির ছোট্ট তানিয়ার জীবন এখন বিপন্ন

ফাস্টফুড বা রাস্তার ধারের মুখরোচক খাবার এখন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই জিহ্বার স্বাদ যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তার এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত তৈরি হলো দক্ষিণ দিল্লির বুরারি এলাকায়। মাত্র ১০ বছর বয়সী তানিয়া নামের এক শিশু মোমোর প্রতি তীব্র আসক্তির কারণে লিভার বিকল হয়ে হাসপাতালের আইসিইউ-তে (ICU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
আসক্তি যখন মরণফাঁদ
তানিয়া ও তার ৮ বছর বয়সী বোন গৌরী বাড়িতে অনেকটা সময় অভিভাবকহীন অবস্থায় থাকত। তাদের বাবা-মা দুজনেই কর্মজীবী হওয়ায় বাড়িতে দাদুর কাছেই সময় কাটত তাদের। দাদুর দেওয়া হাতখরচের টাকা দিয়ে তানিয়া প্রতিদিন স্থানীয় দোকান থেকে মোমো কিনে খেত। এই খাদ্যাভ্যাসটি এক সময় নেশায় পরিণত হয়, যা তার অজান্তেই শরীরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করে।
স্মৃতিভ্রম ও স্নায়বিক বিপর্যয়
কিছুদিন আগে তানিয়ার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তার বাবা-মা। ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়ার মাধ্যমে সমস্যার শুরু হলেও দ্রুতই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে সে হাঁটাচলার ক্ষমতা হারায় এবং নিজের পরিবারের সদস্যদেরও চিনতে পারছিল না। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের ফলে তার লিভার পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছিল (Acute Liver Failure)। এর ফলে শরীরে বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন জমে যায় এবং তা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে পৌঁছে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি’ (Hepatic Encephalopathy), যা মূলত লিভার বিকল হওয়ার ফলে সৃষ্ট মস্তিষ্কের একটি গুরুতর রোগ।
আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি ও বিশেষজ্ঞ মতামত
তানিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলেই হয়তো সে প্রাণে বেঁচে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, আর সামান্য দেরি হলে তাকে লিভার প্রতিস্থাপন বা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মতো জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। বর্তমানে সে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।
দিল্লির শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ শিশুর মধ্যে ‘ফ্যাটি লিভার’-এর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এর পেছনে প্রধান তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
- অতিরিক্ত ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর স্ট্রিট ফুড আসক্তি।
- শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলার অভাব।
- দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা টিভির স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা।
এই ঘটনাটি অভিভাবকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশেষ করে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা যখন সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না, তখন শিশুরা বাইরের খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
একঝলকে
- ঘটনার স্থান: বুরারি, দক্ষিণ দিল্লি।
- আক্রান্ত: ১০ বছর বয়সী তানিয়া।
- মূল কারণ: প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর মোমো খাওয়ার অভ্যাস।
- শারীরিক অবস্থা: লিভার বিকল হওয়া থেকে মস্তিষ্কে সংক্রমণ ও স্মৃতিভ্রম।
- মেডিক্যাল টার্ম: হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি।
- চিকিৎসা: আইসিইউ-তে নিবিড় পর্যবেক্ষণ।
- সতর্কবার্তা: শিশুদের ফাস্টফুড আসক্তি ও স্ক্রিন টাইম কমানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
