ডিগ্রি বাড়লে কি কমছে কাজের সুযোগ? রাজ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর নারীদের বেকারত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তার পরিসংখ্যান

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলগুলির ইস্তেহারে নারী কল্যাণের প্রতিশ্রুতির বন্যা বইলেও বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মহিলাদের কর্মসংস্থানের চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের সমস্যা বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ১০.৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জাতীয় গড় ৯.৯ শতাংশের চেয়েও বেশি।
ডিগ্রি বাড়লেও কমছে সুযোগ
শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে কর্মসংস্থানের অভাবের এক বিচিত্র সমীকরণ দেখা যাচ্ছে বাংলায়। পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, কম শিক্ষিতদের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার যেখানে ১৫.৪ শতাংশ, সেখানে সমগোত্রীয় পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২.৯ শতাংশ। স্নাতক স্তরেও চিত্রটা একই রকম। অর্থাৎ, যত বেশি পড়াশোনা করছেন মহিলারা, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তাঁদের জন্য ততটাই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
তরুণী ও যুবতীদের ক্রমবর্ধমান সংকট
রাজ্যে অল্পবয়সী তরুণীদের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। ২০২২ সালে যুবতীদের বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ৫.৭ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে একলাফে বেড়ে ১১.৯ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালেও এই অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মহিলাদের পিছিয়ে পড়া রাজ্যের আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সরকারি ও কেন্দ্রীয় নানা স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প থাকলেও তার সুফল উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের কাছে পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভোটের ময়দানে প্রতিশ্রুতির লড়াই
নির্বাচনের মুখে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই মহিলাদের জন্য আর্থিক ভাতা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সাময়িক আর্থিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি না হলে এই সংকট মিটবে না। সরকারি প্রশিক্ষন কেন্দ্র ও জব ফেয়ারের মতো উদ্যোগগুলি শিক্ষিত মহিলাদের কর্মসংস্থানের মূল স্রোতে ফেরাতে কতটা কার্যকর হবে, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্বের হার ১০.৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি।
- স্নাতকোত্তর মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৫.৪ শতাংশ, যা পুরুষদের (২.৯%) তুলনায় বহুগুণ বেশি।
- গত ৩ বছরে রাজ্যে যুবতীদের বেকারত্বের হার ৫.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১১.৯ শতাংশ হয়েছে।
- সরকারি নানা দক্ষতা বৃদ্ধি প্রকল্প থাকলেও উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের কর্মসংস্থানে তার প্রভাব সামান্য।
