ভয়মুক্ত ভোটের লক্ষ্যে লোকভবনে ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি

ভয়মুক্ত ভোটের লক্ষ্যে লোকভবনে ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়া বজায় রাখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি। আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনকে সামনে রেখে লোকভবনে একটি সার্বক্ষণিক (২৪x৭) নাগরিক হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই এই পরিষেবা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে লোকভবন। রাজ্যপালের এই উদ্যোগ মূলত সাধারণ মানুষকে কোনো প্রকার ভয় বা বাধা ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা করার জন্য নেওয়া হয়েছে।

সংঘাতের আবহে প্রশাসনিক সক্রিয়তা

রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আর এন রবি রাজ্যের শিক্ষা, শিল্প এবং সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে পয়লা বৈশাখের দিন রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে তাঁর দেওয়া ‘পরিবর্তন’-এর ডাক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তফশিলি সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা এবং সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরাসরি নাগরিক পরিষেবায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এই হেল্পলাইন নম্বরের (০৩৩-২২০০-১০২২ থেকে ১০২৯ পর্যন্ত মোট সাতটি নম্বর) মাধ্যমে ভোটাররা সরাসরি তাঁদের অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

পাল্টা আক্রমণে শাসকদল

রাজ্যপালের এই অতি-সক্রিয়তাকে সহজভাবে নিচ্ছে না রাজ্যের শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবন থেকে আসা এই জাতীয় মন্তব্য ও পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে, এমতাবস্থায় রাজভবনের এই হস্তক্ষেপ উস্কানিমূলক। রাজ্যপাল যেখানে বাংলার যুবসমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, সেখানে শাসকদল একে কেন্দ্রের রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবেই দেখছে। ফলে ভোট শুরুর আগেই নবান্ন বনাম রাজভবন সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এক ঝলকে

  • অবাধ ও ভয়মুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে লোকভবনে ২৪x৭ হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন রাজ্যপাল আর এন রবি।
  • মোট সাতটি আলাদা টেলিফোন নম্বরের মাধ্যমে ভোটাররা সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবেন।
  • রাজ্যপালের ‘পরিবর্তন’-এর ডাক ও প্রশাসনিক সক্রিয়তায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • রাজ্যের শিক্ষা ও শিল্প পরিস্থিতির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *