“গুজরাটে কোনোদিন মোদীকে ঝালমুড়ি খেতে দেখিনি,” ঝাড়গ্রামের মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের

“গুজরাটে কোনোদিন মোদীকে ঝালমুড়ি খেতে দেখিনি,” ঝাড়গ্রামের মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের

ঝাড়গ্রামের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদীই আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সবচেয়ে বড় ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্ভয়ে ঝালমুড়ি খাওয়াই প্রমাণ করে যে গত এক দশকে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়েছে।

উন্নয়ন ও নিরাপত্তার খতিয়ান

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে ২০১১ সালের আগের বাম জমানার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি বলেন, একটা সময় ঝাড়গ্রামে রাত ১০টার পর মানুষ ঘর থেকে বেরোতে ভয় পেতেন। অথচ আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। অভিষেকের দাবি, গুজরাট বা মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে যেতে দেখা যায় না। জঙ্গলমহলে আজ যে শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণই তার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

রাজনৈতিক সংঘাত ও পাল্টা কটাক্ষ

এদিন ভাষণে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কপ্টার বিভ্রাট নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে একজন আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রীকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি, ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ‘ক্যামেরা ট্রিক’ বলে বিরোধীরা যে সমালোচনা করেছিল, সেই সুরেই অভিষেক মন্তব্য করেন যে বিজেপি বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রচার চালালেও প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেই প্রচারকে ভুল প্রমাণ করেছেন।

এই মন্তব্যের ফলে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধল। জঙ্গলমহলের ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের অনুকূলে রাখতে তৃণমূল যেমন উন্নয়নের দাবিকে হাতিয়ার করছে, তেমনই মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাটিকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ‘শান্তির প্রতীক’ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে জোড়াফুল শিবির।

এক ঝলকে

  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মমতা সরকারের শ্রেষ্ঠ ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ হিসেবে অভিহিত করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • ঝাড়গ্রামে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাকে জঙ্গলমহলে শান্তি ফেরার বড় প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
  • বাম জমানার তুলনায় বর্তমানের নিরাপদ পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা তুলে ধরেন অভিষেক।
  • হেমন্ত সোরেনের কপ্টার আটকানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিওটিকে রাজনৈতিক কটাক্ষের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *