পৃত্তিত্ব কলঙ্কিত! মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে লালসার শিকার বাবার, এই কাঁদে স্তম্ভিত এলাকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জন্মদাতার হাতেই সন্তানের সম্ভ্রমহানির এক চরম অমানবিক ঘটনায় কোঝিকোড়ের একটি আদালত অভিযুক্ত বাবাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। কোইলান্ডি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টের বিচারক কে. নওশাদ আলী এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনাটি শুধু কেরালা নয়, গোটা দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। নিজের ওপর অর্পিত বিশ্বাসের মর্যাদা লঙ্ঘন করে নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগে এই কঠোরতম শাস্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রকাশ ও বিচারিক প্রক্রিয়া
ঘটনাটি দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও মেয়েটির মায়ের তৎপরতায় তা প্রকাশ্যে আসে। স্বামীর আচরণে সন্দেহ জাগলে তিনি দ্রুত মেয়েকে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে আশ্রয় পাওয়ার পর নির্যাতিতা কিশোরী তাঁর খালার কাছে বাবার পৈশাচিক আচরণের কথা সবিস্তারে বর্ণনা করে। এর পরপরই কোইলান্ডি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে ইনস্পেক্টর মেলভিন জোস এবং সাব-ইন্সপেক্টর জিতেশ যাবতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করেন, যা আদালতের সামনে অভিযুক্তের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সামাজিক প্রভাব
বিচারক তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান যেখানে পিতার কাছে সর্বাধিক নিরাপত্তার প্রত্যাশা করে, সেখানে এই অপরাধ সমাজের নৈতিক কাঠামোর পরিপন্থী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পি. জেতিনের জোরালো সওয়ালের প্রেক্ষিতে আদালত কঠোর দণ্ড প্রদানের মাধ্যমে এই বার্তা দিয়েছে যে, পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে লুকানো যৌন অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। এই রায় ভবিষ্যতে এই ধরণের অপরাধ দমনে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে কোঝিকোড়ের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
- ২০২৪ সালে সংঘটিত এই ঘটনায় নির্যাতিতা তাঁর খালার কাছে নৃশংসতার কথা জানালে বিষয়টি সামনে আসে।
- কোইলান্ডি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট অপরাধীকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
- পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই দৃষ্টান্তমূলক সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
