এবার টান পড়বে রান্নাঘরেও! পাম অয়েলের অভাবে অমিল হতে পারে সাবান-বিস্কুটও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রান্নাঘর থেকে প্রসাধন সামগ্রী সবকিছুর দাম কি এবার নাগালের বাইরে চলে যাবে! ইরান যুদ্ধের উত্তাপ আর ইন্দোনেশিয়ার নতুন নীতিতে ভারতে পাম অয়েলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া এখন রপ্তানির বদলে নিজেদের দেশে ডিজেল তৈরিতে এই তেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ভারতের বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সাবান, শ্যাম্পু ও বিস্কুটের মতো নিত্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
আমদানি নির্ভরতায় বড় ধাক্কা
ভারত বিশ্বের বৃহত্তম পাম অয়েল আমদানিকারক দেশ, যা প্রতি বছর প্রায় ৯৫ লক্ষ টন তেল বিদেশ থেকে আনিয়ে থাকে। অথচ দেশে বার্ষিক উৎপাদন মাত্র ৪ লক্ষ টনেরও কম। দেশের মোট ভোজ্য তেলের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করে এই সস্তা পাম অয়েল। মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এই তেল আমদানি করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার নতুন ‘B50’ পলিসি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহের এই চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রাত্যহিক জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব
পাম অয়েলের সংকট কেবল রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চিপস, বিস্কুট, চকোলেটের মতো প্যাকেটজাত খাবার থেকে শুরু করে স্নানের সাবান ও শ্যাম্পু তৈরিতে এই তেল অপরিহার্য উপাদান। দীর্ঘস্থায়ী গুণমান এবং কম দামের কারণে ভারতীয় শিল্পক্ষেত্রে পাম অয়েলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি হ্রাসের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
এক ঝলকে
- ভারত তার প্রয়োজনীয় পাম অয়েলের ৯০ শতাংশের বেশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করে।
- ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি কমিয়ে নিজেদের দেশে ‘B50’ ডিজেল তৈরিতে পাম অয়েল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- পাম অয়েলের ঘাটতি দেখা দিলে সাবান, শ্যাম্পু, বিস্কুট ও চিপসের মতো নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়তে পারে।
- ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা ভারতের ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
