পাঞ্জাবে শুরু ‘অপারেশন লোটাস’! আপ ছেড়ে বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা সহ ৭ সাংসদ, বড়সড় ভাঙন কেজরিওয়ালের দলে – এবেলা

পাঞ্জাবে শুরু ‘অপারেশন লোটাস’! আপ ছেড়ে বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা সহ ৭ সাংসদ, বড়সড় ভাঙন কেজরিওয়ালের দলে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আম আদমি পার্টিতে (আপ) বড় ধরনের ভাঙন ধরিয়ে রাজ্যসভার সাত সাংসদ যোগ দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি)। রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তলের মতো প্রভাবশালী নেতাদের এই দলত্যাগ দিল্লির রাজনীতিতে বড় আলোড়ন তৈরি করেছে। একে বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’ হিসেবে অভিহিত করে আপ নেতা সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেছেন যে, পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি ও সিবিআই-কে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলছুট এই সাংসদদের পদক্ষেপকে তিনি পাঞ্জাবের মানুষের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেছেন।

সরকার পতনের ষড়যন্ত্র ও পাল্টা অভিযোগ

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে রাঘব চাড্ডা জানিয়েছেন, আম আদমি পার্টি এখন আর দেশস্বার্থে কাজ করছে না, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ এখন তাদের সঙ্গে রয়েছেন এবং তারা ইতিবাচক রাজনীতির স্বার্থে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে শামিল হচ্ছেন। অন্যদিকে, সঞ্জয় সিংয়ের দাবি, পাঞ্জাবের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনকল্যাণমূলক কাজগুলো স্তব্ধ করতেই বিজেপি এই ষড়যন্ত্র করছে। মাত্র অল্প বয়সে যাদের দল রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল, তারা ক্ষমতার মোহে আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পাঞ্জাব রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও প্রভাব

এই দলবদলের ফলে পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির প্রশাসনিক ভিত্তি বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। বিশেষ করে রাজ্যসভার সাংসদদের একটি বড় অংশ বিরোধী শিবিরে চলে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় আইনসভা ও রাজ্যে দলীয় সংহতি বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রভাব ও দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষই এই ভাঙনের মূল কারণ। এই পরিস্থিতির কারণে পাঞ্জাবের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা প্রবল।

এক ঝলকে

  • রাঘব চাড্ডা ও অশোক মিত্তলসহ আপ-এর সাত জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
  • আপ নেতা সঞ্জয় সিং একে বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’ এবং পাঞ্জাবের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
  • দলত্যাগী সাংসদদের দাবি, আম আদমি পার্টি এখন দেশহিতের বদলে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
  • এই ভাঙনের ফলে পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *