ভয়াবহ সাইলেন্ট কিলার এই রোগ, সময়মতো চিকিৎসা না করালে পা হারানোর ঝুঁকি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নিঃশব্দ ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD)। এই রোগের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, সামান্য অবহেলায় শেষ পর্যন্ত রোগীর পা কেটে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অনেকেই এই রোগের নাম বা লক্ষণ সম্পর্কে অবগত নন, যার ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যায়।
পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ কী ও কেন হয়
পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ মূলত এমন একটি অবস্থা যেখানে পায়ের রক্তনালীগুলো সরু হয়ে যায়। হৃদরোগের ক্ষেত্রে যেমন ধমনীতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, এখানেও ঠিক একই প্রক্রিয়া ঘটে। রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পায়ের কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে পায়ে তীব্র ব্যথা, ক্ষত এবং পরবর্তীকালে গ্যাংগ্রিন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ৬৫ বছর ঊর্ধ্ব ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
লক্ষণ দেখে সতর্ক হোন
প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের লক্ষণগুলো খুব সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু তা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
- হাঁটাচলার সময় পায়ে অসহ্য ব্যথা হওয়া (যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ইন্টারমিটেন্ট ক্লডিকেশন বলা হয়)।
- পায়ের আঙুলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং আঙুলের রঙ পরিবর্তন হয়ে কালো হয়ে যাওয়া।
- পায়ে হওয়া কোনো ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নেওয়া।
- পায়ের ত্বকের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা কালচে ছোপ পড়া।
দ্রুত চিকিৎসা ও গবেষণা যা বলছে
লেস্টারের গ্লেনফিল্ড হাসপাতালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পিএডি (PAD) আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যদি রোগীকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা যায়, তবে পা কেটে বাদ দেওয়ার (অ্যামপুটেশন) ঝুঁকি প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। অর্থাৎ, চিকিৎসার গতি যত বাড়বে, রোগীর অঙ্গহানির আশঙ্কা ততটাই কমে আসবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের ভাস্কুলার সার্জারি ইউনিটগুলো এই লক্ষ্যেই তাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে।
প্রতিরোধ ও সচেতনতা
এই রোগ থেকে বাঁচতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান বর্জন করা, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা পিএডি প্রতিরোধের প্রধান উপায়। পায়ের যেকোনো ছোটখাটো পরিবর্তন বা ব্যথাকে সাধারণ ক্লান্তি মনে করে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, আজকের সামান্য অবহেলা ভবিষ্যতের পঙ্গুত্বের কারণ হতে পারে।
এক ঝলকে
- রোগ: পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD)।
- মূল কারণ: পায়ের রক্তনালী সরু হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা।
- প্রধান ঝুঁকি: ৬৫ বছরের বেশি বয়স এবং ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী।
- প্রাথমিক লক্ষণ: হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা ও ত্বকের রঙ পরিবর্তন।
- প্রতিকার: দ্রুত রোগ নির্ণয় করলে পা হারানোর ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ কমানো সম্ভব।
- প্রতিরোধ: ধূমপান ত্যাগ, ব্যায়াম এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ।
