ইভিএম পাহারায় ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মালদহে ১৭ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘বজ্রআঁটুনি’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মালদহে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হলেও উত্তেজনা কমেনি। ভোট পরবর্তী হিংসা রোধ এবং ইভিএমের সুরক্ষা নিশ্চিতে জেলাজুড়ে এখন নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পুরো জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হবে। বিশেষ করে স্ট্রং রুম ও তার আশপাশের এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
নির্বাচন পরবর্তী শান্তি বজায় রাখতে মালদহে বর্তমানে ১৭ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কো ম্পা নি বাহিনীকে বিভিন্ন স্পর্শকাতর থানা এলাকায় টহলদারির কাজে লাগানো হয়েছে। বাকি ২ কো ম্পা নি বাহিনী আদালতের নির্দেশে বিচারকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত। মালদহ কলেজ ও পলিটেকনিক কলেজে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ স্ট্রং রুম, যেখানে ১২টি কেন্দ্রের ইভিএম কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের সমন্বয়ে একটি ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রশাসনিক তৎপরতা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার দাবি করা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় পক্ষই স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও জনমতের সঠিক প্রতিফলন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর কিছুটা আস্থা রাখলেও কারচুপির আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। স্ট্রং রুমের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
নিরাপত্তার এই কঠোর ব্যবস্থার মূল কারণ হলো ভোট পরবর্তী সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানো এবং গণনার দিন পর্যন্ত ব্যালট বক্সের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে উদ্ভূত উত্তেজনা প্রশমন করাই এখন জেলা প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই কড়াকড়ির প্রভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
এক ঝলকে
- মালদহে ভোট পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৭ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
- ইভিএম রক্ষায় মালদহ কলেজ ও পলিটেকনিক কলেজে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে।
- স্ট্রং রুমের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং সিসিটিভি নজরদারি চলছে।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।
