শান্তি আলোচনার কেন্দ্রে ইসলামাবাদ, ইরানের কড়া শর্তের মুখে ট্রাম্পের বিশেষ দূতরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা কাটাতে এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাতের বরফ গলাতে কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে কূটনীতিকে সুযোগ দিতে চাইলেও দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো চরম পর্যায়ে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর অবরোধকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ট্রাম্প প্রশাসন এই অবরোধ বজায় রাখার পক্ষপাতি হলেও ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, অবরোধ না উঠলে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক দড়িটানাটানি ও মধ্যস্থতা
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারও আলোচনার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের পথে রয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই বৈঠক থেকে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছে। যদিও ইরান সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমেই তারা আমেরিকার কাছে নিজেদের দাবি ও বার্তা পৌঁছে দেবে।
হরমুজ সংকট ও ভবিষ্যতের প্রভাব
ইরানের মতে, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ বজায় রাখা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কোনো প্রকার হুমকি বা চাপের মুখে মাথা নত করে আলোচনায় বসতে নারাজ তেহরান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি রবিবার সম্ভাব্য এই শান্তি আলোচনা সফল না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাকিস্তান এই মুহূর্তে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করছে, যেখানে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এক ঝলকে
- ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
- হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার না করলে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইরান।
- মার্কিন বিশেষ দূত হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন।
- আগামী রবিবার দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
