OMG! হোটেল রিভিউতে এমন কিছু লিখলেন এই ব্যক্তি, যে যেতে হলো জেলে, এমনকি দেশ থেকেও করা হলো বহিষ্কার – এবেলা

OMG! হোটেল রিভিউতে এমন কিছু লিখলেন এই ব্যক্তি, যে যেতে হলো জেলে, এমনকি দেশ থেকেও করা হলো বহিষ্কার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কাতারে মধুচন্দ্রিমা কাটাতে গিয়ে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন ব্রিটিশ নাগরিক ক্রেগ ব্যারেট ও তাঁর স্ত্রী সারা ব্যারেট। দোহায় একটি বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থানের সময় সারাকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে দুই অপরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলের ধারে সারাকে একা পেয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়। ঘটনার সময় তাঁর স্বামী কাজের প্রয়োজনে সৌদি আরবে ছিলেন। বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও নিরাপত্তার গাফিলতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

প্রতিবাদের জেরে আইনি সংকট

স্ত্রী নিরাপদ নন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ উদাসীন—এই ক্ষোভ থেকে ট্রিপঅ্যাডভাইজার প্ল্যাটফর্মে একটি নেতিবাচক রিভিউ লেখেন ক্রেগ। সেখানে তিনি হোটেলটিকে পশ্চিমা নারীদের জন্য ‘অনিরাপদ’ বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু এই অনলাইন প্রতিবাদই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কাতার সরকারের সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে কাজের সূত্রে তিনি কাতারে ফিরলে তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করা হয় এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা ও জেলের সাজা দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর জেল থেকে মুক্তি পেলেও গত অক্টোবরে ক্রেগ ব্যারেটকে কাতার থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী দম্পতির দাবি, তাঁরা কেবল নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সরব হয়েছিলেন, কিন্তু তার বদলে তাঁদের চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে পেশাদার কাজে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • দোহায় বিলাসবহুল হোটেলে ব্রিটিশ নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা।
  • প্রতিবাদের জেরে ট্রিপঅ্যাডভাইজারে নেতিবাচক রিভিউ দেওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের মামলা।
  • প্রায় ২০ হাজার কাতারি রিয়াল জরিমানা এবং চার দিনের জেল খাটতে হয় ওই ব্রিটিশ নাগরিককে।
  • শেষ পর্যন্ত কাতার থেকে বহিষ্কার করা হয় ওই ব্যক্তিকে, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *