সমুদ্রে কীভাবে মাইন পাতা হয়? মিনিটের মধ্যে জাহাজ ধ্বংস করার ক্ষমতা তাদের কতটা? জানুন – এবেলা

সমুদ্রে কীভাবে মাইন পাতা হয়? মিনিটের মধ্যে জাহাজ ধ্বংস করার ক্ষমতা তাদের কতটা? জানুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন উঠে এসেছে ঘাতক নৌ-মাইন। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনকারী ইরানি জাহাজ দেখা মাত্রই ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সামুদ্রিক মাইনের এই উপস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। তেল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় একটি সামান্য বিস্ফোরণও নিমিষেই বড় কোনো জাহাজকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে সক্ষম।

অদৃশ্য শক্তির মরণ কামড়

নৌ-মাইন মূলত জলর নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিশেষ ধরনের বিস্ফোরক। চতুর্দশ শতাব্দীতে জলদস্যু দমনে চীন প্রথম এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এর ভয়াবহতা বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করে। এগুলো সাধারণত জাহাজের শব্দ, জলর চাপ কিংবা চৌম্বকীয় তরঙ্গ শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রিমোট কন্ট্রোল বা দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমেও এগুলো পরিচালনা করা হয়। লিম্পেট মাইনের মতো ছোট সংস্করণগুলো আবার ডুবুরিদের মাধ্যমে গোপনে শত্রু জাহাজের গায়ে লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব।

শনাক্তকরণ ও আগামীর সংকট

সমুদ্রে এই মাইনগুলো খুঁজে বের করা অত্যন্ত জটিল কাজ। স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে এগুলোর অবস্থান অনবরত পরিবর্তিত হয়, ফলে অত্যাধুনিক ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেও শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এই জলপথে হাজার হাজার মাইন মোতায়েন করে রেখেছে, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে। এই মাইন যুদ্ধের প্রভাব কেবল সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সামুদ্রিক পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করবে।

এক ঝলকে

  • হরমুজ প্রণালীতে মাইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
  • নৌ-মাইন মূলত জলর নিচে থাকা অদৃশ্য বিস্ফোরক যা কয়েক মিনিটে বিশাল জাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে।
  • এই মাইনগুলো চৌম্বকীয় তরঙ্গ, শব্দ বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
  • সমুদ্রের তলদেশে বা জলর স্তরে ভাসমান থাকায় এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *