সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ আর সহ্য নয়! সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল্লির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সীমান্তে ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদ এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষের রক্তপাতের পর এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নিল ভারত। ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি’ (আইডাব্লিউটি) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসলামাবাদকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই বিখ্যাত হুঁশিয়ারি— “রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না”— বাস্তবে রূপদান করে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু নদের জলের অংশ পাবে না পাকিস্তান।
জলকষ্টে বিপন্ন পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক নালিশ
ভারতের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের কৃষি ও জনজীবনে হাহাকার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের এই চরম দাবদাহে সিন্ধু নদের জলপ্রবাহ কমে আসায় দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে ‘জলযুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নালিশ জানিয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ লালন-পালন বন্ধ না করলে কোনও আলোচনা বা সমঝোতার অবকাশ নেই।
ভারতের মাস্টারপ্ল্যান ও কৃষিতে নতুন দিগন্ত
পাকিস্তানকে চাপে রাখার পাশাপাশি ভারত তার নিজস্ব জলসম্পদ ব্যবহারে মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছে। প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল এবং ডজনখানেক টানেল নির্মাণের মাধ্যমে সিন্ধু নদের অতিরিক্ত জল এখন রাজস্থান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শুষ্ক অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সেচ ও পানীয় জলের চিরস্থায়ী সমাধান হবে, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সন্ত্রাসবাদের মাসুল ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ভারতের এই কঠোর ‘জল-নীতি’ ইসলামাবাদকে আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা করে ফেলেছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি, অন্যদিকে ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে পাক ভূখণ্ডে জলের প্রবাহ চিরতরে কমে যাওয়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই অবস্থান পাকিস্তানের জন্য এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা— হয় সন্ত্রাসবাদ ত্যাগ করতে হবে, নয়তো এক ভয়াবহ জলহীন ও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এক ঝলকে
- সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত নিল ভারত।
- জলের অভাবে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিজমি সংকটে, রাষ্ট্রসংঘে প্রতিকার চাইছে ইসলামাবাদ।
- সিন্ধুর জল রাজস্থান ও হরিয়ানার মতো শুষ্ক রাজ্যে পৌঁছে দিতে ভারত বিশাল ক্যানাল প্রজেক্ট শুরু করেছে।
- ভারতের এই সাহসী পদক্ষেপ পাকিস্তানের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করবে।
