জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে হাহাকার হলেও ভারতের কূটনৈতিক চালে রক্ষা পেল মধ্যবিত্তের পকেট – এবেলা

জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে হাহাকার হলেও ভারতের কূটনৈতিক চালে রক্ষা পেল মধ্যবিত্তের পকেট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর অস্থিরতার মাঝে যেখানে একের পর এক দেশ জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে, সেখানে ভারত এক অনন্য কূটনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় থমকে যাওয়ায় অনেক দেশে পেট্রোল পাম্পে তালা পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো যখন জ্বালানির জন্য হাহাকার করছে, তখন ভারতের দূরদর্শী কূটনীতি ও আগাম পরিকল্পনা দেশকে এক ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

রুশ তেল ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চ্যালেঞ্জ

উপসাগরীয় দেশগুলোর সংকটকে সুযোগে পরিণত করতে ভারত মূলত রাশিয়ার ওপর ভরসা রেখেছে। তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্চ মাসে ভারত রাশিয়া থেকে দৈনিক প্রায় ১.৯৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা গত দুই মাসের তুলনায় দ্বিগুণ। মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের প্রতিবাদ সত্ত্বেও নয়াদিল্লি নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেলের ওপর বিশেষ ছাড় আদায় করে নেওয়ায় এপ্রিল মাসে অতিরিক্ত ৬ কোটি ব্যারেল তেলের চুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

আমদানি উৎসে বৈচিত্র্য ও কৌশলগত সাফল্য

ভারত শুধু একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর দিকেও নজর দিয়েছে। অ্যাঙ্গোলা থেকে তেল আমদানি তিনগুণ বাড়িয়ে দৈনিক ৩২৭,০০০ ব্যারেলে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া নাইজেরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও ইরানের সঙ্গে সমন্বয় মজবুত করার ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে লিটার প্রতি তেলের দাম অন্তত ২৮ টাকা বাড়ার কথা থাকলেও সরকারি বিচক্ষণতায় তা স্থিতিশীল রয়েছে।

এক ঝলকে

  • হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার মাঝেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি দ্বিগুণ করেছে ভারত।
  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার কাছ থেকে বিশেষ ছাড়ে অতিরিক্ত ৬ কোটি ব্যারেল তেলের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
  • জ্বালানি আমদানিতে বৈচিত্র্য আনতে অ্যাঙ্গোলা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানো হয়েছে।
  • সরকারের আবগারি শুল্ক হ্রাস ও এনার্জি ডিপ্লোমেসির কারণে গত চার বছরে ভারতে তেলের দাম বাড়েনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *