ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে এবার আমিরাতের আকাশে ইজরায়েলি আয়রন ডোম! – এবেলা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে এবার আমিরাতের আকাশে ইজরায়েলি আয়রন ডোম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এক নাটকীয় মোড় নিতে শুরু করেছে। ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজেদের সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ দিচ্ছে ইজরায়েল। সম্প্রতি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যে ফোনালাপের পর এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতিহাসে এই প্রথম ইজরায়েল তাদের নিজস্ব এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ঢাল অন্য কোনো দেশে মোতায়েন করতে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হামলার প্রভাব

মূলত ইরান ও তার মিত্রদের অব্যাহত হামলার মুখে আমিরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আমিরাতে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারের বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই নজিরবিহীন হামলায় দেশটির বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইজরায়েল কেবল সরঞ্জাম নয়, বরং কারিগরি সহায়তা ও বিশেষ সেনাদল পাঠানোরও পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপের ফলে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বাইরে তৃতীয় দেশ হিসেবে আমিরাত এই বিশ্বসেরা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় নতুন মোড়

ইজরায়েলের এই শক্তিশালী ‘আয়রন ডোম’ ৪ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে আসা যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা উড়ন্ত হুমকি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম। এর আগে হামাস ও ইরানের বড় আকারের হামলা থেকে ইজরায়েলকে সুরক্ষা দিয়েছে এই ব্যবস্থাটি। বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতে এই ব্যবস্থা মোতায়েন করার অর্থ হলো ইরানের বিরুদ্ধে একটি অভিন্ন আঞ্চলিক সামরিক বলয় গড়ে তোলা। তবে এই সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়াবে নাকি নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

এক ঝলকে

  • ইরান থেকে ছোড়া ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২,০০০ ড্রোন হামলার পর আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংকটে পড়েছে।
  • বন্ধু রাষ্ট্র আমিরাতকে সুরক্ষা দিতে ইজরায়েল প্রথমবারের মতো বিদেশে তাদের ‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থা মোতায়েন করছে।
  • সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি বিশেষায়িত সেনাদল পাঠিয়ে কারিগরি সহায়তা দেবে তেল আভিভ।
  • এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বিরোধী জোটে আমেরিকা, ইজরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে সামরিক বন্ধন আরও দৃঢ় হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *