‘আমার পরিবারে সব ধর্মের মানুষ আছে’, বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনে সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভেদের বিরুদ্ধে বরাবরই সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনের এক অজানা ও বৈচিত্র্যময় দিক সামনে এসেছে। যেখানে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতির সীমারেখা নেই, বরং এক ছাদের নিচেই বাস করছে ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের আসল রূপ। তাঁর পরিবারে হিন্দু, মুসলিম, শিখ থেকে শুরু করে গোর্খা—সব সম্প্রদায়ের মানুষেরই অবাধ যাতায়াত ও আত্মীয়তা রয়েছে।
পারিবারিক বন্ধনে ধর্মাতীত সংহতি
মুখ্যমন্ত্রীর পারিবারিক পরিমণ্ডল মূলত বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। তাঁর পরিবারের নতুন প্রজন্মের সদস্যরা শুধু বাঙালির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; তাঁদের কেউ পাঞ্জাবি, আবার কেউবা গোর্খা সম্প্রদায়ের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই বৈচিত্র্যময় পারিবারিক পরিকাঠামো প্রমাণ করে যে, তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে অবস্থান করেন। সামাজিক বিভাজনের এই যুগে তাঁর অন্দরমহলের এই চিত্রটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্বশীলতা
কেবল আত্মীয়তার সম্পর্কই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও তিনি এক অনন্য নজির গড়েছেন। তাঁর বাড়িতে বর্তমানে তিনজন তফসিলি কন্যা রয়েছেন, যাঁদের তিনি নিজ সন্তানের মতো বড় করেছেন। এমনকি তাঁদের ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার পরেও তাঁরা বর্তমান পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তাঁর সঙ্গেই বসবাস করছেন। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং স্নেহশীল মাতৃত্বের এক বিরল দৃষ্টান্ত।
এক ঝলকে
- মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারে পাঞ্জাবি ও গোর্খাসহ বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।
- অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন হিসেবে তাঁর বাড়িতে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ সহাবস্থান করেন।
- তিনজন তফসিলি কন্যাকে নিজের আশ্রয়ে বড় করে তাঁদের সামাজিক প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
- ব্যক্তিগত জীবনেও জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মানবিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
