ইরানের প্রস্তাব আর ট্রাম্পের হুঙ্কার, কোন পথে হাঁটবে মধ্যপ্রাচ্য? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে শান্তির সম্ভাবনা জাগিয়ে তেহরান থেকে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছে একটি গোপন শান্তি প্রস্তাব। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো ইরানের এই ‘দ্বি-স্তরীয়’ পরিকল্পনা মূলত সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং ধাপে ধাপে পারমাণবিক আলোচনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে এই প্রস্তাবের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও নাটকীয় প্রতিক্রিয়া বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দীর্ঘ বিমান যাত্রা করে আলোচনার দিন শেষ, ইরানকে কথা বলতে হলে সরাসরি ফোন করতে হবে।
তেহরানের শর্ত ও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ বাণিজ্যের সুযোগ এবং সামুদ্রিক অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। ইরান চাইছে প্রথমে যুদ্ধবিরতি ও অবরোধ মুক্তি নিশ্চিত হোক, এরপর তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং অন্তত ১০ বছরের জন্য সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে। আলোচনার জন্য বিশেষ দূত পাঠানোর বদলে ট্রাম্পের “ফোন করো” বার্তাটি ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তেল অর্থনীতি ও রাশিয়ার ভূমিকা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের ফলে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। ইরান এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে এবং একইসঙ্গে কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে রাশিয়ার দ্বারস্থ হয়েছে। সোমবার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আরাগচির বৈঠক ওয়াশিংটনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত তেহরান ট্রাম্পের শর্ত মেনে আলোচনায় বসে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।
এক ঝলকে
- ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহারসহ দুই স্তরের একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশেষ দূত পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ করে ইরানকে সরাসরি ফোনে কথা বলার কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
- ইরান ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার মার্কিন শর্তে এখনো সম্মত হয়নি।
- হরমুজ প্রণালীর অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে।
