তেল সংকট মেটাতে ইরানের বড় চাল, চাপে পড়বে কি ট্রাম্প প্রশাসন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও চরম উত্তেজনার আবহে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় আসতে চলেছে। বৈশ্বিক তেলের হাহাকার কাটাতে এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি বিশেষ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই গোপন বার্তাটি ওয়াশিংটনে পৌঁছানো হয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব ও ওয়াশিংটনের অনড় অবস্থান
তেহরানের পাঠানো এই নতুন প্রস্তাবে মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি, ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার আগে অর্থনৈতিক স্থিতি ফেরানো। তবে হোয়াইট হাউস এই প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ ত্যাগ করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ও আগামীর পথ
পারস্য ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালী মার্কিন নৌবাহিনী অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ইরান চাইছে আগে অবরোধ সরিয়ে নিজেদের ভেঙে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করতে, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট শর্ত ছাড়া কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন যদি দ্রুত না মেটে, তবে জ্বালানির উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কমাতে সফল হয় কি না।
এক ঝলকে
- হরমুজ প্রণালী সচল করতে এবং জ্বালানি সংকট মেটাতে আমেরিকাকে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান।
- পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি ও তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার আবেদন জানানো হয়েছে।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
- মধ্যপ্রাচ্যের এই অচলাবস্থা কাটলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
