ওকে মেরে না ফেলে যদি হাত-পা ভেঙেও ছেড়ে দিত, তাহলেও চোখের সামনে দেখে বেঁচে থাকতাম! গ্রামবাসীদের হামলার মুখে পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর ফুলপুর থানা এলাকায় তরুণ ব্যবসায়ী মনীশ সিং হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত রবিবার কারখানা থেকে ফেরার পথে এক অনিচ্ছাকৃত সড়ক দুর্ঘটনার জেরে একদল উন্মত্ত জনতা মনীশকে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের পরিবারে। মনীশের স্ত্রী অঙ্কিতা সিংয়ের একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁর বিলাপ ও ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাহাকার গোটা এলাকাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
হামলার মুখে পুলিশ ও রণক্ষেত্র এলাকা
মামলার প্রধান অভিযুক্তদের ধরতে এসওজি এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের সদস্যরা খালিসপুর বস্তিতে অভিযান চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রায় ১৫০ জন গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় এবং একজন কনস্টেবলের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখায়। গ্রামবাসীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের দীর্ঘক্ষণ জিম্মি করে রাখে। পরবর্তীতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করলেও এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে মূল অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
অনিশ্চয়তায় অনাথ পরিবার
নিহত মনীশ সিংয়ের বাবা-মা নেই, ফলে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। মাত্র ছয় মাস বয়সী শিশুসহ তিন সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী অঙ্কিতা সিংয়ের অসহায় আর্তনাদ ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং মূল অপরাধীদের ধরতে বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- গাড়ি দুর্ঘটনার তুচ্ছ অভিযোগে বারাণসীর ব্যবসায়ী মনীশ সিংকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ১৫ জনের একটি দল।
- অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে গ্রামবাসীদের হামলার মুখে পড়ে পুলিশ এবং এক পুলিশ কর্মীর পিস্তল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
- ঘটনায় ৮ জন নামধারীসহ মোট ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- নিহতের অসহায় স্ত্রী ও তিন ছোট সন্তানের কান্নায় বারাণসীর ফুলপুর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
